প্রায় দুই দশক ধরে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি দায়িত্ব পালনে সময় না দিয়ে খামারের প্রতি মনোযোগ অভিযোগের মুখে চিকিৎসক
মো. ইসমাইল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. শাহরিয়ার কবির প্রায় ১৯ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ২০০৬ সালের ৪ এপ্রিল কার্ডিওলজি বিভাগে যোগদানের পর থেকে তিনি এখানেই থেকে গেছেন, যদিও মাঝে বদলির আদেশ হয়েছিল।
সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী, এক জায়গায় একজন চিকিৎসক সাধারণত তিন বছরের বেশি থাকতে পারেন না। তবে ডা. শাহরিয়ার কবির সেই নিয়ম ভেঙে দীর্ঘ সময় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে দায়িত্ব পালন করেছেন। জানা গেছে, পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকারের দিনাজপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি এখানে থাকতে পেরেছেন।
এর পাশাপাশি, দিনাজপুর সদরের রামডুবিতে গড়ে তোলা তার বিলাসবহুল খামারবাড়ি নাহার এ্যাগ্রো এন্ড ফিশারিজ নিয়ে শহরে বেশ আলোচনা চলছে। দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই খামারবাড়িতে গরু, ছাগল, পোলট্রি, চাষাবাদ এবং পুকুর রয়েছে। খামারবাড়িটি আধুনিক এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে জানা গেছে।
একান্ত আলোচনায় ডা. শাহরিয়ার কবির জানিয়েছেন, খামারবাড়ি তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং এটি গড়ে তুলতে তার বৈধ উপার্জিত অর্থই ব্যবহার হয়েছে। তিনি বলেন, আমি সর্বোচ্চ করদাতাদের মধ্যে একজন। আমার আয়কর বিবরণীতে এসব উল্লেখ রয়েছে। খামারবাড়িতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সেটা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়।
তবে দিনাজপুরে জনমনে ধারণা, দীর্ঘ সময় এক জায়গায় থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি এই বিলাসবহুল খামার গড়ে তুলেছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, খামারের দেখাশোনার কারণে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ করার প্রক্রিয়াতেও তার ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান এবং খামারবাড়ি নিয়ে আলোচনা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে স্থানীয় মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সরকারি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো তদন্ত করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
