ফিলিস্তিনিদের আবেগঘন বার্তা আর বিশ্বের প্রশংসা; মিসরের কোচই জিতলেন ‘আসল’ বিশ্বকাপ

অনলাইন ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চকে ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের প্রতি তার অকুণ্ঠ সমর্থন ও আবেগঘন বক্তব্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কোনো ধর্ম বা আঞ্চলিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে কেবল ‘মানুষ’ হিসেবে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর এই আহ্বান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুড়াচ্ছে লাখো মানুষের প্রশংসা।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে আরবি ভাষায় কথা বলার সময় হোসাম হাসান বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, বিশ্বের কোনো প্রান্তে যদি এমন কোনো ব্যক্তি থাকেন যিনি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য দুঃখ বোধ করেন না, তবে তিনি আসলে মানুষই নন। তিনি আরব, ইউরোপীয়, আমেরিকান বা অন্য যে কোনো পরিচয়েরই হোন না কেন, এই মানবিক বোধ সবার থাকা উচিত। চলমান ফিলিস্তিন সংকটে বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করে মিসরের এই কোচ আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্বে একটি পশুর ক্ষতি হলেও মানুষ যেভাবে সোচ্চার হয়, অথচ প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার মানুষ, নারী ও শিশু প্রাণ হারাচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্ব বিবেক যেন স্তব্ধ।

ক্রীড়াঙ্গনের তারকা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসান বলেন, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক নরম শক্তি বা ‘সফট পাওয়ার’। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে সবাইকে একটি বার্তা দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি, দয়া করে ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন। তারা বাড়তি কিছু চায় না, তারা কেবল শান্তিতে বেঁচে থাকার অধিকার চায়।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মিসরের ঐতিহাসিক জয়ের পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপন করতে দেখা গিয়েছিল হোসাম হাসানকে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সংবাদ সম্মেলনে তার এই ঐতিহাসিক বক্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিব্রিল রাজউব কোচের এই মানবিক ও মহৎ অবস্থানের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিনের লেখক ইয়াসের জাতারেহ মন্তব্য করেছেন, হোসাম হাসান বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও বড় গৌরব অর্জন করেছেন, তিনি মানবতা ও আদর্শের লড়াইয়ে জিতে গেছেন। এমনকি অবরুদ্ধ গাজার সাধারণ মানুষ আল জাজিরার মাধ্যমে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে মিসরের এই কোচকে তাদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য হৃদয় নিংড়ানো ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ফিফার ‘রেস্পেক্ট অ্যান্ড ফেয়ার প্লে’ স্লোগানের কথা উল্লেখ করে হোসাম হাসান তার বক্তব্য শেষ করেন এই বলে যে, মাঠের মতো আমরা জীবনেও ন্যায়বিচার ও মানুষের জীবনের প্রতি সম্মান দেখতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights