বছরে মিলবে ৮ হাজার কোটি টাকার আর্থসামাজিক সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার আর্থসামাজিক সুবিধা পাওয়া যাবে। এতে উপকৃত হবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ওই অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার কমবে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা পাবে এবং সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এর ফলে দেশে আরও প্রায় ২৪ লাখ টন ধান এবং সোয়া ২ লাখ টন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

জানা গেছে, বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পরিকল্পনা প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীতে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গড়াই-মধুমতী, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যারাজের মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ওইসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সেই পানি দিয়ে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পিরোজপুর অঞ্চলে প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া হবে। এর ফলে দেশে আরও প্রায় ২৪ লাখ টন ধান এবং সোয়া ২ লাখ টন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার কমবে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা পাবে এবং সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এ ছাড়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প, গোদাগাড়ী পাম্প হাউস এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ২০৩৩ সালের পর দ্বিতীয় ধাপে ব্যারাজ ঘিরে তিনটি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া সাতটি স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আনিসুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যথাযথভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে যেখানে ব্যারাজ প্রয়োজন সেখানে যদি এটি নির্মাণ করা যায় এবং ঠিকমতো কাজে লাগানো যায়, তাহলে অনেক ধরনের সুবিধা পাওয়া সম্ভব। তবে এর ব্যত্যয় ঘটলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তখন দেখা যাবে ব্যারাজ কোনো কাজে লাগছে না, বরং শুধু শুধু অর্থের অপচর হয়েছে এবং নদীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাজেই ব্যারাজ নির্মাণের আগে ভালোমতো পরীক্ষানিরীক্ষা এবং নির্মাণের পর সেটির ঠিকঠাক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights