বরিশাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে বরিশালের কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা। এতে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
বাস মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, বরিশাল-স্বরূপকাঠি সড়কের শিমুলতলা এবং বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের নতুনহাট এলাকায় থ্রি-হুইলার চালকরা বাস আটকে দেন। এর প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানান, শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার চালকরা অবস্থান নিয়ে অন্তত ২০টি বাস আটকে দেন। পরে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চললেও নতুনহাট এলাকায় আবার বাস আটকে দেওয়ার খবর পাওয়া যায়। এরপরই সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে এসব যানবাহন সড়ক অবরোধ করে, তা প্রশাসনের দেখার বিষয়। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় কয়েকশ বাস টার্মিনালে আটকা পড়েছে।
বাস শ্রমিক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শিমুলতলা এলাকায় কোনো কারণ ছাড়াই মাহিন্দ্রা চালকরা জড়ো হয়ে কয়েকটি বাসে ভাঙচুর চালান এবং কয়েকজন স্টাফকে মারধর করেন। পরে বানারীপাড়াগামী একটি বাসেও হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাসচালক আমজাদ অভিযোগ করেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পুলিশের সামনেই এসব যান চলাচল করছে। থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে বাস চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, দুপুর ১টার পর থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি সমাধানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন এবং নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে বৈঠক চলছে।
ওসি জানান, বৈঠকে থ্রি-হুইলার মালিক বা শ্রমিক সংগঠনের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত নেই। তবে তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নথুল্লাবাদ টার্মিনালে আটকে পড়েছেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী। অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাসের অপেক্ষায় টার্মিনালে অবস্থান করছেন তারা। দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
