বস্তি থেকেই নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সিলেট মহানগরের ‘বিষফোড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বস্তিকেন্দ্রিক অপরাধজগৎ। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) তথ্যমতে, মহানগরে কলোনি বা বস্তির সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৪০০। এসব বস্তিতে বসবাসকারী জনসংখ্যা প্রায় সোয়া লাখ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহানগরের এ বস্তিগুলো হয়ে উঠেছে অপরাধের ভয়ংকর আখড়া। গড়ে উঠেছে বস্তিকেন্দ্রিক কিশোর গ্যাং। চুরি, ছিনতাই, মাদকসেবন ও কারবার এবং জুয়ার নিরাপদ আস্তানাও এসব বস্তি। আবার অপরাধীরা অপরাধ করে আশ্রয় নিচ্ছে বস্তিতে।

সম্প্রতি বস্তিকেন্দ্রিক অপরাধের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে রাজনৈতিক তৎপরতা। বস্তির শিশু-কিশোরদের স্বল্প টাকায় ভাড়া করে বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক তৎপরতা ও নাশকতার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর মোগলাবাজার থানার শ্রীরামপুর বাইপাস এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল ও নাশকতার প্রস্তুতিকালে ৩০ জনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে ২৮ জনই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য; যাদের বয়স ১৫-২০-এর মধ্যে। নগরের তেররতন, সাদারপাড়া ও উপশহরের বিভিন্ন কলোনির বাসিন্দা তারা।

সিসিকের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবুল ফজল খোকন জানান, সিটি করপোরেশন বস্তিগুলোয় স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করে। নিরাপত্তা কিংবা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বা পর্যবেক্ষণ নিয়ে কোনো কার্যক্রম নেই সিসিকের।

আর পুলিশ বলছে, এসব অপরাধ নেটওয়ার্ক ভাঙতে তারা বিশেষ মিশনে নেমেছে। এর দৃশ্যমান সুফল নগরবাসী শিগগির দেখতে পাবেন।

নগর ঘুরে দেখা গেছে, সিলেট মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বস্তিকেন্দ্রিক কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মাছিমপুর, ছড়ারপাড়, মেন্দিবাগ, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, আম্বরখানা, ইলেকট্রিক সাপ্লাই, সুবিদবাজার, আখালিয়া, পাঠানটুলা, রিকাবিবাজার, ওসমানী হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা, কানিশাইল, শামীমাবাদ, মদিনা মার্কেট, পীরমহল্লা, শাহীঈদগাহ, চারাদিঘীরপাড়, ধোপাদিঘীরপাড়, কুশিঘাট, বাদামবাগিচা, মজুমদারী, চৌকিদেখি, উপশহর, তেররতন, সাদারপাড়া, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, তোপখানা, কাজিরবাজার, দাঁড়িয়াপাড়া, মির্জাজাঙ্গাল, লামাবাজার, কুয়ারপাড়, তালতলা, নয়াসড়ক, টিবি গেট, বালুচর, হাউজিং এস্টেট ও কদমতলী অন্যতম। চুরি, ছিনতাই, মাদক, মারামারি ও খুনাখুনিতে এসব বস্তির কিশোর গ্যাংয়েরা জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট মহানগরের বেশির ভাগ বস্তিতে মাদক কেনাবেচা হয়। কোনো কোনো বস্তিতে আসর বসিয়ে চলে মাদকসেবন ও জুয়া খেলা। মাদকসেবনের পাশাপাশি মাদক বিক্রিও হয় বস্তিতে। সিলেট নগরের বস্তিকেন্দ্রিক মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সবচেয়ে বড় স্পট হচ্ছে কাষ্টঘর ও দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলার সুইপার কলোনি।

বস্তিকেন্দ্রিক অপরাধ প্রসঙ্গে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বস্তিকেন্দ্রিক কিশোর গ্যাংয়েরা যেসব স্থানে আড্ডা দেয় সেগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব কিশোর গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে মাদক কেনাবেচার সম্পর্ক রয়েছে। মাদক থেকে পরে তারা চুরি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধে জড়ায়। বস্তি ও কিশোর গ্যাংকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। এ অভিযানের দৃশ্যমান সুফল শিগগির নগরবাসী পাবেন। অপরাধ দমনে বস্তিগুলোর প্রতিও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights