বান্দরবান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ওষুধ ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তড়িঘড়ি করে চার কোটি টাকার ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয় করা নিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বিল পরিশোধের চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় চেক আটকে দিয়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা এই দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ২ অথবা ৩ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন চৌধুরী জানান, বান্দরবান সদর হাসপাতালের জন্য চার কোটি টাকার ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ের জন্য মার্চ মাসে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে গত ১৩ জুন ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ৮০-৯০ শতাংশ ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী তারা সরবরাহ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী অবশিষ্ট মালামাল সরবরাহের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, অভিযোগ পাওয়া গেছে, ইজিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো একটি পক্ষ পণ্যের মূল্য কোড ফাঁস করে দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছে।

অভিযোগকারীরা জানান, ছয়টি গ্রুপে আহ্বান করা টেন্ডারের পাঁচ গ্রুপই পেয়েছে এমএসএন হেলথকেয়ার। অবশিষ্ট একটি পেয়েছে মেসার্স আলমগীর ট্রেডার্স।

তবে, এ অভিযোগ অস্বীকার করে সিভিল সার্জন বলেন, ইজিপি প্রক্রিয়ায় কাউকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ এ ধরনের কোনো অনিয়মের সাথে যুক্ত নয়।

অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারের মালামাল না পেয়েই ঠিকাদারের অনুকূলে চূড়ান্ত বিল পাস করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চেক পাইয়ে দেওয়ার নীল নকশা সাজান সিভিল সার্জন ডা. শাহীন চৌধুরী।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে টেন্ডারের মালামাল বুঝে নেওয়া সংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ডা. সানাই প্রু জানান, তিনি কোনো মালামাল বুঝে নেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন না। তাকে এসব বিষয়ে অবহিত করা হয়নি।

তবে, বৃহস্পতিবার ২৫ জুন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয় সভায় মালামাল বুঝে নেওয়ার কাগজে তার সই নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। সানাই প্রু বলেন, ২৫ জুন আমি দেখতে পাই কমিটির অন্য সদস্যরা মালামাল বুঝে নেওয়ার কাগজে সই করেছেন।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সূত্র জানায়, গত ২৮ জুন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে টেন্ডার বিল বাবদ প্রায় ৪ কোটি টাকা বিল পাওয়া যায়। প্রক্রিয়া শেষে সেই বিলের চেক প্রস্তুতও হয়ে যায়। তবে, অনিয়মের অভিযোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে চেক প্রদান স্থগিত রাখা হয়েছে।

এদিকে, গত ১ জুলাই যে সময়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে তদন্ত কার্যক্রম চলছিল, একই সময়ে তার পাশের ভবন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গুদামে ঠিকাদার এমএসএন হেলথকেয়ারের পক্ষ থেকে ট্রাক থেকে টেন্ডারের মালামাল আনলোড করা হচ্ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights