বিএনপি-জামায়াতে মতপার্থক্য বাড়ছে
এম এ আজিজ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের নির্বাচনি সহযোগিতা পেরিয়ে এখন ক্ষমতা, সাংবিধানিক সংস্কার, সাংগঠনিক বিস্তার ও জনসমর্থন অর্জনের প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুই দলের অবস্থানেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, আর জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সংসদে বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফলে তাদের সম্পর্ক এখন সহযোগিতার পুরোনো কাঠামোর পরিবর্তে সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফল দুই দলের রাজনৈতিক শক্তির ব্যবধান স্পষ্ট করেছে। বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়ী হয় এবং জোটের শরিকদের নিয়ে আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ২১২। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন পায় এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের আসনসংখ্যা হয় ৭৭। এই ফল বিএনপিকে সরকার পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে এবং জামায়াতকে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী অবস্থানে এনেছে। তবে আসনসংখ্যার পাশাপাশি ভোটের হার, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাবও রাজনৈতিক শক্তি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি তৈরি হয় ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর। ওই নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও জামায়াতের সংসদীয় সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। পরবর্তী সময়ে দুই দলের সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। ১৯৯৯ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট গঠিত হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে জোটের বিজয়ের পর জামায়াতের দুই নেতা মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। ফলে নির্বাচনি সমঝোতা, সংসদীয় সমর্থন এবং ক্ষমতায় অংশগ্রহণ দুই দলের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে।
তবে রাজনৈতিক সহযোগিতা থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য কখনো দূর হয়নি। নির্বাচনি আসন বণ্টন, রাজনৈতিক কৌশল, জামায়াতের নিবন্ধনসংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং মুক্তিযুদ্ধে দলটির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক বিভিন্ন সময়ে সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর দুই দল আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতায় বিভিন্ন সময়ে পাশাপাশি আন্দোলন করে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট প্রথমে ১৮-দলীয় এবং পরে ২০-দলীয় কাঠামোয় বিস্তৃত হয়। কিন্তু সহযোগিতার পাশাপাশি পৃথক রাজনৈতিক স্বার্থও ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সাংবিধানিক সংস্কা২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীরা বিএনপির প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তী সময়ে পুরোনো জোটের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে। বিএনপি অন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে পৃথক রাজনৈতিক মঞ্চে কাজ করে, আর জামায়াত নিজস্ব সাংগঠনিক পরিচয় ও কর্মসূচি জোরদার করার দিকে মনোযোগ দেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দুই দলের পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জনসমর্থন অর্জনের প্রতিযোগিতা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
বর্তমান বিরোধের অন্যতম কেন্দ্র জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর প্রকাশ্যে আসা এই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাবের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়। বিএনপি সংসদের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী পক্ষ গণভোটে অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে। ফলে সংস্কারের বিষয়বস্তুর পাশাপাশি বাস্তবায়নের সাংবিধানিক পদ্ধতিও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। এই বিরোধের মূল প্রশ্ন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নয়, বরং জনগণের অনুমোদন, সংসদের ক্ষমতা এবং সাংবিধানিক বৈধতার মধ্যে সমন্বয় কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বিএনপির যুক্তি, সংবিধান সংশোধনের বৈধ প্রক্রিয়া সংসদের মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হওয়া উচিত। জামায়াত ও তার মিত্রদের বক্তব্য, গণভোটে অনুমোদিত সংস্কারপ্রক্রিয়াকে সাধারণ সংসদীয় কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। কোন ব্যাখ্যা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইন, আদেশ, গণভোটের ফল এবং সাংবিধানিক বিধান সতর্কভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
সংসদীয় কমিটি গঠন ও সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ ঘিরেও দুই পক্ষের মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে। সরকার সংসদের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনি ভিত্তি নিয়ে আপত্তি তুলেছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা এই অবস্থানকে গণভোটের রায়ের সঙ্গে অসংগত বলে মনে করছে। তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে এককভাবে কোনো পক্ষের অবস্থানকে বৈধ বা অবৈধ ঘোষণা করা যায় না। গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য আইনি যুক্তি, প্রাসঙ্গিক নথি এবং প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার প্রয়োজন।
সরকারের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে; একই সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের জবাবদিহিও বাড়িয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই বিরোধী মত উপেক্ষা করা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। অন্যদিকে বিরোধী দলও আলোচনার প্রাতিষ্ঠানিক পথ পরিহার করলে সমঝোতার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। গণভোটের ফল, সংসদের সাংবিধানিক ক্ষমতা এবং সংস্কারের বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা তৈরি করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সুবিধার চেয়ে আইনগত স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রাজনৈতিক সহিংসতা। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার ১৮৩টি ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ২২৭ জন আহত হন। একই সময়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধে ৬৯টি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত ও অন্তত ৫৪০ জন আহত হন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ৩১টি ঘটনায় ১ জন নিহত এবং ৩৩৮ জন আহত হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান রাজনৈতিক সহিংসতার ব্যাপ্তি সম্পর্কে উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরলেও সব ঘটনাকে বিএনপি ও জামায়াতের দ্বন্দ্বের ফল হিসেবে দেখা যথাযথ নয়। সহিংসতার উল্লেখযোগ্য অংশ বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ অথবা বিএনপি ও অন্য দলের সংঘর্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। সংগঠনটির অনুসন্ধান ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ঘটনার সামগ্রিক চিত্র বুঝতে সহায়তা করে। তবে প্রতিটি সংঘর্ষের কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং দায় নির্ধারণের জন্য স্বাধীন তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, মামলার নথি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফল বিবেচনা করা প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিচার হয়েছে এবং পাঁচ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীরও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এসব বিচারিক সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও দায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত তথ্য উপেক্ষা করা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি প্রমাণ ছাড়া ব্যক্তিবিশেষের দায় বর্তমান দলের প্রত্যেক সদস্যের ওপর আরোপ করাও বস্তুনিষ্ঠতার পরিপন্থি।
মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে দুই দলের নেতাদের বক্তব্য ও পাল্টা সমালোচনা বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কেও প্রভাব ফেলে। এ বিষয়ে আলোচনা করতে হলে আদালতের রায়, প্রামাণ্য দলিল, ঐতিহাসিক গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে ইতিহাসের জটিল প্রশ্নের নিষ্পত্তি করা যায় না। একইভাবে অতীতের বিচারিক সিদ্ধান্তের তাৎপর্য অস্বীকার না করেও বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করা সম্ভব। তথ্যভিত্তিক আলোচনা এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণের মানদণ্ড বজায় রাখলে ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক আরও দায়িত্বশীল ও যুক্তিনির্ভর হতে পারে।
আবার ক্ষমতাসীন বিএনপির সামনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রম ও ফলাফল জনসমর্থনের স্থায়িত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে জামায়াতের সামনে বিরোধী দল হিসেবে সংসদে কার্যকর ভূমিকা প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে। সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের যুক্তিনির্ভর সমালোচনা, সংসদীয় প্রশ্ন উত্থাপন, জবাবদিহি দাবি এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাবের মাধ্যমে বিরোধী দল তার কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারে। শুধু বক্তব্যের তীব্রতা নয়, সংসদীয় নজরদারিতে অবদানও গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে: জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ। সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা হলে সংসদীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিপরীতে মতপার্থক্য দীর্ঘায়িত হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। তবে বিরোধ থাকা নিজেই গণতন্ত্রের দুর্বলতা নয়; বরং বিরোধ কীভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনা, আইনি প্রক্রিয়া এবং সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসন করা গেলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে থাকতে পারে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দুই দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনসমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, জামায়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণের জন্য ডাকসুর সহসভাপতি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। দলটি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রার্থিতা, নির্বাচনি তফসিল ও চূড়ান্ত মনোনয়ন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ দলীয় কোন্দল নিয়ন্ত্রণ, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সমন্বয় এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচন। অন্যদিকে জামায়াতের জন্য জাতীয় নির্বাচনে অর্জিত সমর্থনকে স্থানীয় পর্যায়ে স্থায়ী সাংগঠনিক ভিত্তিতে রূপ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাররা জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, এলাকার উন্নয়ন, নাগরিকসেবার প্রতিশ্রুতি এবং স্থানীয় নেতৃত্বের আচরণ বিবেচনা করতে পারেন। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনসংখ্যা স্থানীয় নির্বাচনে একই অনুপাতে সাফল্য নিশ্চিত করে না। মাঠপর্যায়ের সংগঠন ও প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা এখানে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যক্রম মানুষের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলে। বিএনপির জন্য দলীয় সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় এবং জবাবদিহি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াতের জন্য জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সাংগঠনিক উপস্থিতিকে কার্যকর নাগরিকসেবার প্রতিশ্রুতিতে রূপ দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় নির্বাচনে দুই দলের প্রতিযোগিতা তাই কেবল রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন নয়; সুশাসন ও জনসেবার সক্ষমতা যাচাইয়েরও সুযোগ।
♦ লেখক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক
