বিশ্বকাপে আগুন ঝরানো মেসি যেভাবে আমেরিকার অর্থনীতিরও নায়ক

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে প্রমাণ করেছেন বয়স তার পারফরম্যান্সে কোনো বাধা নয়। তবে শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও তিনি এখন এক বিশাল অর্থনৈতিক শক্তির নাম।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি শহরে মেসিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব। পর্যটন, আবাসন ও আতিথেয়তা খাতজুড়ে তার উপস্থিতি এনে দিয়েছে নতুন গতি, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

২০২৩ সালের ১৫ জুলাই ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা। এরপর ২১ জুলাই লিগস কাপে ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ফ্রি কিক থেকে গোল করে স্মরণীয় অভিষেক ঘটান তিনি। সেই মুহূর্ত থেকেই আমেরিকান ফুটবলে শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়।

মেসির আগমনের পর ইন্টার মিয়ামি শুধু এমএলএসের সবচেয়ে মূল্যবান ক্লাবেই পরিণত হয়নি, বরং শহরের অর্থনীতিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে উদ্বোধন হয়েছে ২৬ হাজার ৭০০ আসনের আধুনিক নু স্টেডিয়াম, যা ১ বিলিয়ন ডলারের মিয়ামি ফ্রিডম পার্ক প্রকল্পের কেন্দ্র।

এই প্রকল্পের আওতায় ভবিষ্যতে শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্র, বাণিজ্যিক অফিস ও হোটেল কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মেসিকে ঘিরে ফ্লোরিডায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যার সুফল পাচ্ছে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খুচরা ব্যবসা।

যদিও মেসির সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ধারণ করা জটিল, তবুও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সামগ্রিক প্রভাব ইতোমধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

মেসির উপস্থিতিতে মিয়ামি এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কোপা আমেরিকার ফাইনাল, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের পর এবার ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে শহরটি প্রস্তুত করছে সাতটি ম্যাচ।

মাঠে তার হ্যাটট্রিক যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি মাঠের বাইরে তার ব্র্যান্ড ভ্যালু মিয়ামির অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাচ্ছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights