মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: নবম দিনে যা ঘটছে, দেখুন একনজরে

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে; প্রথমবারের মতো আঘাত হানা হয়েছে তেল মজুত কেন্দ্র এবং শোধনাগারগুলোতে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা অব্যাহত রেখেছে। একটি তেল ডিপোতে হামলার মাধ্যমে এই সংঘাত এখন উপসাগরীয় অঞ্চলসহ লেবানন ও ইরাকেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরান বলেছে, যুদ্ধ শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে মাসুল দিতে হবে। কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক সম্পদের ওপর ইরান তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ড ইরানকে আক্রমণ করার জন্য ব্যবহৃত না হলে তিনি সেসব দেশে হামলা বন্ধ করবেন।

যুদ্ধের নবম দিনে বর্তমান পরিস্থিতি:

ইরানে পরিস্থিতি

সামরিক হামলা ও ক্রমবর্ধমান হতাহত: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় আকারের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রথমবারের মতো তেল মজুত কেন্দ্র ও শোধনাগারগুলোতে আঘাত হেনেছে। শনিবার গভীর রাতে তেহরানের উপকণ্ঠে শেহরান তেল ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফুটেজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ধরা পড়ে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে যে, তারা ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি মজুত কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হেনেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১,৩৩২ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছ থেকে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ”-এর দাবি অব্যাহত রেখেছেন। শনিবার গভীর রাতে তিনি বলেন যে, যুদ্ধ “আরও কিছু সময়” চলবে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ওয়াশিংটন তেহরানের সাথে কোনো “রফা” করতে চাইছে না।

নৌ-পথের হুমকি ও চলাচল: ইরানের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে হরমুজ প্রণালী এখনো উন্মুক্ত রয়েছে, তবে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। শনিবার জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি জাহাজগুলোর নিজস্ব পছন্দ এবং তিনি দাবি করেন যে ওয়াশিংটন ইরানের নৌবাহিনীকে “নিশ্চিহ্ন” করে দিয়েছে।

আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি

প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক: প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক চায় এবং শত্রু পক্ষ বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে তার মন্তব্যকে “শত্রুরা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছে যারা প্রতিবেশীদের সাথে বিভেদ বপন করতে চায়।” তার এই মন্তব্য এমন সময় এল যখন পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইরানের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ইরানের নতুন নেতৃত্ব: ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের (Assembly of Experts) সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-মাহদি মিরবাঘেরি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর উত্তরসূরি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত খুব কাছাকাছি। টেলিগ্রামে ফারস নিউজ এজেন্সির পোস্ট করা একটি ভিডিওতে মিরবাঘেরি বলেন, “নেতৃত্ব নির্ধারণের জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা” চালানো হয়েছে এবং একটি “চূড়ান্ত ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে” পৌঁছানো গেছে।

তদন্ত ও প্রতিবেদন

যুদ্ধাপরাধ: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৬০ জন নিহত হওয়ার ঘটনাটি (যাদের মধ্যে অধিকাংশই স্কুলছাত্র) ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করা উচিত। আল জাজিরার তদন্তে দেখা গেছে যে, বিদ্যালয়টিকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভবত “পরিকল্পিত” ছিল। অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এই হামলাটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র চালিয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন: দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বড় আকারের হামলা ইরানের সরকারকে উৎখাত করার সম্ভাবনা কম। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের খণ্ডিত বিরোধী দলের দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনাও “ক্ষীণ”।

বৈশ্বিক প্রভাব

তেল বাণিজ্য: এই যুদ্ধ বিশ্ববাজারকে অস্থির করে তুলেছে এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় তেলের দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুদ্ধের মাত্র এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারীর পর এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি।

সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights