মাকে তাবিজ আনতে পাঠিয়ে শিশু চুরি, ৩৫ হাজারে বিক্রির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
তাবিজ আনার কথা বলে শিশুটির মাকে বাসা থেকে বাইরে পাঠান প্রতিবেশী এক কথিত কবিরাজ। সেই সুযোগে ৪৫ দিন বয়সী শিশুকন্যাকে নিয়ে উধাও হন তিনি। পরে শিশুটিকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন ওই নারী। এরপর শিশুটিকে নেওয়া হয় নিঃসন্তান এক নারীর কাছে। এভাবে হাতবদলের ১২ দিন পর বরিশাল থেকে চুরি হওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কথিত কবিরাজসহ তিন নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন বরিশাল নগরীর রূপাতলী মাওলানা ভাসানী সড়কের ভাড়াটিয়া মো. কামালের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৫৫), নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির বাড়ি স্কুলসংলগ্ন এলাকার ফারুক হোসেনের ছোট মেয়ে মৌরি (২৪) এবং তাঁর বড় বোন চট্টগ্রামের বাসিন্দা ফাহমিদা আক্তার।
পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর বরিশাল নগরীর রূপাতলী ভাসানী সড়কের বাসিন্দা বৃষ্টি তাঁর ৪৫ দিন বয়সী কন্যাশিশু চুরির অভিযোগে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে কথিত কবিরাজ নাসিমা বেগমকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে নাসিমা পুলিশকে জানান, শিশুটিকে ৩৫ হাজার টাকায় মৌরির কাছে বিক্রি করেছেন তিনি। পরে মৌরি শিশুটিকে তাঁর নিঃসন্তান বড় বোন ফাহমিদা আক্তারের কাছে দেন। ফাহমিদা শিশুটিকে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান।
মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, তদন্তের ধারাবাহিকতায় শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সোমবার ফাহমিদা শিশুটিকে নিয়ে থানায় হাজির হন। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিশুটির মা বৃষ্টি জানান, গত ২০ অক্টোবর সকালে প্রতিবেশী নাসিমা বেগম তাঁর বাসায় আসেন। পরে শিশুকন্যার জন্য তাবিজ আনতে তাঁকে বাইরে পাঠান। ফিরে এসে তিনি নাসিমা ও তাঁর ৪৫ দিন বয়সী মেয়ে সাদিয়াকে আর বাসায় পাননি। এরপর তিনি থানায় অভিযোগ করেন। ১২ দিন পর মেয়েকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন বৃষ্টি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, শিশু চুরির ঘটনায় মায়ের করা মামলায় তিনজনকে আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
