চোখে পড়ছে না সাফের প্রচারণা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রচারে গতকাল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে ব্যতিক্রমী এক ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। যেখানে ২০০৩ সালে সাফে চ্যাম্পিয়ন জাতীয় দল ও ২০০৯ সালে এসএ গেমসে সোনা জয়ী অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়রা অংশ নেন। ম্যাচে ২-১ গোলে জয়ী হয় এসএ গেমসের সোনা জয়ীরা – ছবি : বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিজয়ের উৎসবেঢাকা স্টেডিয়ামে অন্যরকম ফুটবল লড়াইয়ের দেখা মিলল। গতকাল ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন ও ২০০৯ সালে এসএ গেমসে সোনা জয়ী বাংলাদেশের দুই দল প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। এর মধ্যে আবার দুই চ্যাম্পিয়ন দলেরই অনেকে খেলেছেন। এর মধ্যে গোলরক্ষক আমিনুল হক অন্যতম। তাঁর নেতৃত্বে ২০০৯ সালে ঢাকায় এসএ গেমসে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো সোনা জিতেছিল। ফাইনালে আফগানিস্তানকে ৪-০ গোলে হারিয়ে বিজয়ের উৎসবে মেতেছিল লাল-সবুজের দল।

অন্যদিকে আবার ২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলে নিয়মিত গোলরক্ষক ছিলেন আমিনুল হক। ফাইনালে টাইব্রেকারে মালদ্বীপকে হারিয়ে প্রথম ও শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ জাতীয় দল। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেছিলেন আমিনুল। বিশেষ করে সেমি ও ফাইনালে তাঁর দৃঢ়তাপূর্ণ নৈপুণ্য এখনো চোখে ভাসে। সেবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতেন আমিনুল। যা বাংলাদেশের ফুটবলে ইতিহাসে প্রথম। এর আগে বাংলাদেশের কোনো গোলরক্ষক সেরা গোলরক্ষক হননি।

সেই আমিনুল এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে থাকছেন। তবে নতুন রূপে। তিনি খেলোয়াড়, কোচ বা সংগঠক হিসেবে নন। দেশের ক্রীড়া অভিভাবক হিসেবে তিনি সাপের ম্যাচ উপভোগ করবেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আমিনুলের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। তিনি চান টুর্নামেন্টের স্বার্থক আয়োজন। শুধু ট্রফি নয়, সুষ্ঠু আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রমাণ করতে চায় সাংগঠনিক দক্ষতা। ঢাকায় যে সাফ হচ্ছে তা অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত। টুর্নামেন্ট তো এখন দুয়ারে। ৫ নভেম্বর দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত সাফের পর্দা উঠবে। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা ২৩ বছর পর ঘরের মাঠেই সাফের হারানো ট্রফি উদ্ধার করবে। কিন্তু লড়াই ঘিরে প্রচার-প্রচারণা চোখেই পড়ছে না। ২০০৩ ছাড়াও আরও দুবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছে। ২০০৩ সালে প্রচার-প্রচারণা দেখে তো মনে হচ্ছিল বাংলাদেশে বিশ্বকাপ হচ্ছে। ২০০৯ ও ২০১৮ সালেও ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যানার, তোরণ, ফেস্টুন ও পোস্টারে ভরে গিয়েছিল। এবার তো তেমন সাড়াশব্দ নেই।

বাফুফে থেকে বলা হচ্ছে, এখানে তাদের কিছু করার নেই। পুরোটা দেখছে সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। সাফের টুর্নামেন্টে সাফের দায়িত্ব থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু খেলা তো হবে বাংলাদেশে। সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন কি না করেছে প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না। হামজা, সামিত, জায়ান ছাড়াও একাধিক প্রবাসী খেলবেন। তাদের ঘিরেই মূলত শিরোপার স্বপ্ন। এবার তো প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে থাকার কথা। ঢাকাকে দেখলে কি মনে হবে এত বড় ফুটবল আয়োজন হতে চলেছে। এখানে তাহলে বাফুফের কাজটা কী? গতকাল দুই চ্যাম্পিয়নের যে ব্যতিক্রমী ম্যাচটি হলো তা মূলত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রচারণা ঘিরে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিজেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন। এখন কি তাহলে প্রচারের পুরো কাজটাই করতে হবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights