ফর্টিফায়েড চালের পুষ্টিগুণ যাচাইয়ে ডব্লিউএফপির সহায়তা চান খাদ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।
এ লক্ষ্য অর্জনে ফর্টিফায়েড চালের পুষ্টিগত কার্যকারিতা যাচাই, সরকারি খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং খাদ্য মজুত ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
সোমবার সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সহায়তা কামনা করেন।
বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে সংরক্ষিত চালের গুণগত মান দীর্ঘদিন বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও মজুত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে সমন্বিত নীতিমালা এবং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়নে ডব্লিউএফপির কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে পুষ্টিসমৃদ্ধ ও ফর্টিফায়েড চাল বিতরণ করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০০ উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে এ চাল মানুষের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে একটি প্রভাব মূল্যায়ন গবেষণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গবেষণাটি সম্পন্ন করতে প্রায় চার লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এ গবেষণায় ডব্লিউএফপির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি।
আফরোজা খানম বলেন, ফর্টিফায়েড চালের কার্যকারিতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
পাশাপাশি চালসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যে পুষ্টি উপাদান সংযোজনের কার্যক্রম বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কৌশলগত খাদ্যশস্যের মজুত আরও কার্যকর ও দুর্যোগ-সহনশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন খাদ্যমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় খাদ্য মজুত এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কোকো উশিয়ামা বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি উন্নয়নে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় কৌশলগত খাদ্য মজুত ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান উন্নয়ন এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ফর্টিফায়েড চালের কার্যকারিতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ডব্লিউএফপি সম্ভাব্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে পারে। এজন্য বিস্তারিত ধারণাপত্র তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আশ্বাস দেন।
বৈঠকে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত খাদ্য দিয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উভয় পক্ষ আগামী পাঁচ বছরের সহযোগিতা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ২০২৮ সাল থেকে নতুন অংশীদারত্ব কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আলোচনা করে।
বৈঠকে খাদ্য সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খান, ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের সিনিয়র পার্টনারশিপ অ্যাডভাইজার মো. মহসিন চৌধুরী, হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উডসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একই দিন বিকেলে সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।
এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্যশস্য সংরক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে খাদ্য সচিব, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
