যুদ্ধের আবহে ইরানে প্রাচীন ‘অগ্নি উৎসব’ উদযাপনে নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব ‘চাহারশানবে সুরি’ উদযাপনে এবার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। বসন্তের আগমনে পারস্য ক্যালেন্ডারের শেষ মঙ্গলবার রাতে আগুনের ওপর দিয়ে লাফিয়ে পড়ার এই প্রাচীন উৎসবটি ইরানিদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এবার যুদ্ধের কারণ দেখিয়ে রাস্তাঘাটে কোনো ধরনের জমায়েত বা উৎসব না করার জন্য নাগরিকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দেশটির রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস এবং জরুরি সেবা বিভাগ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা এবং চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এবারের উৎসবে আতশবাজি বা কোনো ধরনের জনসমাগম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দেশটির পুলিশ প্রধান জেনারেল আহমাদরেজা রাদান মঙ্গলবার রাতকে প্রশাসনের জন্য একটি ‘নির্ধারক রাত’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং জনগণকে রাস্তায় নেমে উৎসব পালনকারীদের রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং জরুরি পরিষেবার অপচয় রোধে এই কড়াকড়ি প্রয়োজন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর থেকেই ইরানি প্রশাসন যেকোনো ধরনের বড় জমায়েতকে সন্দেহের চোখে দেখছে। সমালোচকদের মতে, উৎসবের আড়ালে যেন নতুন কোনো গণবিক্ষোভ দানা বাঁধতে না পারে, সেজন্যই এই দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এমনকি নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভী অভিযোগ করেছেন যে, শান্তিপূর্ণ এই সামাজিক উৎসবকে দমন করতে প্রশাসন প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিচ্ছে। একদিকে যুদ্ধের দোহাই এবং অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ভয়—সব মিলিয়ে এবারের চাহারশানবে সুরি ঘিরে ইরানে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সূত্র: সিএনএন
