যে দেশে কারাগার মাত্র একটি, বন্দি মাত্র ১১ জন

অনলাইন ডেস্ক

ইউরোপের বুক চিরে সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত আয়তনে মাত্র ১৬০ বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট এক দেশ লিচেনস্টাইন। বিশ্বের ষষ্ঠ ক্ষুদ্রতম এই দেশটি কেবল এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয় বরং এর অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বজুড়ে বেশ পরিচিত।

মাত্র একচল্লিশ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটি বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত। এখানকার মানুষের মাথাপিছু আয় প্রায় দুই লাখ এক হাজার একশো বারো মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় দুই কোটি ছেচল্লিশ লাখ টাকার সমান।

​বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ এই দেশটির নিজস্ব কোনো সামরিক বাহিনী নেই। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব পালন করে থাকে স্থানীয় পুলিশ বাহিনী। অপরাধের হার অত্যন্ত কম থাকায় এই রাষ্ট্রে কারাগার রয়েছে মাত্র একটি। রাজধানী ফাডুৎসে অবস্থিত এই একমাত্র কারাগারটির ধারণক্ষমতা মাত্র বিশ জন। ওয়ার্ল্ড প্রিজন ব্রিফের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এই কারাগারে বন্দী ছিলেন মাত্র এগারোজন, এবং আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁদের সবাই বিদেশি নাগরিক। তবে লিচেনস্টাইনে সাজাপ্রাপ্ত সব বন্দীকে এই কারাগারে রাখা হয় না। চুক্তি অনুযায়ী, দুই বছরের বেশি মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের কারাগারে পাঠানো হয়।

​চমকপ্রদ বিষয় হলো, অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও উন্নত এই দেশটিতে কোনো বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দর নেই। যাতায়াত বা বিদেশ ভ্রমণের জন্য দেশটির বাসিন্দাদের সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত নিকটবর্তী বড় বিমানবন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। অপরাধের এই নজিরবিহীন স্বল্পতা এবং অনন্য জীবনযাত্রার কারণে লিচেনস্টাইন বিশ্ববাসীর কাছে এক বিস্ময়কর ও শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights