যেকোনো সময় এমপি পদ হারাবেন নজরুল

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের একের পর এক বিতর্কের পর এবার তাঁর এমপি পদ শূন্য করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যেকোনো সময় আসতে পারে। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার, রিমান্ড এবং কারাগারে আটক থাকার বিষয়সহ তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে গতকাল জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সংসদ সচিবালয় থেকে তথ্য চাওয়ার পরেই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবেদনে গাজী নজরুলের গ্রেপ্তার, তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা, আদালতের দেওয়া রিমান্ড এবং বর্তমানে কারাগারে আটক থাকার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী থেকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বহিষ্কারের বিষয় এবং মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের তদন্তে পাওয়া তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) কামারুম মুনিরা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই।’ জানা গেছে, পুলিশের এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্পিকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সাংবিধানিক ও আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাছেও বিষয়টি পাঠানো হবে। ফলে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই এমপির পদ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কেটে যাবে।

গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হয়েছিলেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তবে এমপি নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। পরে গাজী নজরুল নিজেই ভিডিওতে থাকা তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে চলতি বছরের ১৭ জুন তাঁদের বিয়ে হয়।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্ত শুরু করে। ২২ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। পরে তাঁর এমপি পদ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনেও চিঠি দেওয়া হয়। এই বিতর্কের মধ্যেই গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এমপিদের আবাসিক ভবন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ১৯ বছর বয়সি মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে এর আগে স্পিকার জানিয়েছিলেন, শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলেই কোনো এমপির পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয় না। তবে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের নেওয়া ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights