যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ঝুলে আছে কমিটি

ইমরান এমি, চট্টগ্রাম

যোগ্য নেতার সন্ধানে ঝুলে আছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি। কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পাঁচ মাস পার হলেও ঘোষিত হয়নি নতুন কমিটি। এ কারণে গত পাঁচ মাসে পালিত হয়নি দলীয় বা জাতীয় কোনো কর্মসূচি। বিলুপ্ত কমিটি নিজ নিজ এলাকার ব্যানারে দলীয় নানা কর্মসূচি নিয়ে সরব থাকলেও জেলার ব্যানারে আসতে অনীহা তাদের। ফলে কমিটিহীনভাবেই চলছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির রাজনীতি। কমিটি ঘোষণা হচ্ছে বেশ কয়েকবার এমন গুঞ্জন থাকলেও ‘যোগ্য নেতৃত্ব’ না পাওয়ার কারণে আলোর মুখ দেখছে না নতুন কমিটি।

এ বিষয়ে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুন উর রশিদ ভিপি বলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণে আমাদের দলের বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের যোগ্য পরীক্ষিত নেতৃত্ব আছে। ইতোমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে কমিটির প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটির পাশাপাশি আরও কয়েকটি জেলা কমিটিরও কাজ চলছে। এ কারণে হয়তো একটু সময় লাগছে, তবে যে কোনো সময় নতুন কমিটি হতে পারে।

জানা গেছে, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দীন, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম ও আলী আব্বাস, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ইফতেখার মহসিন চৌধুরী, ইদ্রিস মিয়া চেয়ারম্যান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দীন। সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লেয়াকত আলী চেয়ারম্যান, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, জিয়াউদ্দীন চৌধুরী আশফাক, রেজাউল করিম চৌধুরী নেছার চেয়ারম্যান, এম. মনজুর উদ্দীন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য লায়ন হেলাল উদ্দীন, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার নাম আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, এবারের কমিটি হবে তারুণ্যনির্ভর। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে হবে জেলা বিএনপির কমিটি। নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য যেসব প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের নেতৃত্বে আনলে এই মুহূর্তে দল সমালোচিত হবে। এ কারণে আপাতত বিতর্কিত কাউকে নেতৃত্বে আনতে নারাজ হাইকমান্ড। ফলে দলের হাইকমান্ড ক্লিন ইমেজের বিতর্কহীন, গ্রহণযোগ্য নেতার সন্ধানে রয়েছে। এরই মধ্যে দলের হাইকমান্ডের কাছে কয়েকজনের নাম প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত হলেও ফাইনাল হওয়ার আগেই নানা অভিযোগ জমা হচ্ছে তাদের নামের পাশে। এ কারণে তাদের বাদ দিয়ে ফের নতুন করে চিন্তাভাবনা করছে হাইকমান্ড।

এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলতে নারাজ শীর্ষ নেতারা।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সর্বশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি। ওই সময় সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি ও শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। যা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অনুমোদনও দিয়েছিলেন। পরে ২০১১ সালের এপ্রিলে এ কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি পদে বহাল রেখে সাধারণ সম্পাদক করা হয় পটিয়ার সাবেক এমপি গাজী শাজাহান জুয়েলকে ও শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দীনকে করা হয় সিনিয়র সহসভাপতি।

তিন বছরের জন্য গঠিত এ কমিটি আট বছর পাঁচ মাস দায়িত্ব পালন করার পর ২০১৯ সালের অক্টোবরে ভেঙে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights