রূপকথাকেও হার মানিয়েছে কেপ ভার্দে

মো. ইমরুল হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি, বাফুফে

বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলছে পৃথিবীর অন্যতম ছোট দেশ কেপ ভার্দে। এর চেয়ে বড় স্বপ্ন তাদের আর কী হতে পারে। সত্যি বলতে কেপ ভার্দে নামে যে একটি দেশ আছে তা অনেকেই জানতেন না। স্বপ্নের বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার পরই চেনা ও জানা হয়েছে। এখন তো তাদের চেনা ও জানা বললে ভুল হবে। রীতিমতো বাজিমাত করে ফেলেছে। বিশ্বকাপে যারা ফেবারিট বা শক্তিশালী তাদের নিয়েই তর্কবিতর্কটা হওয়া স্বাভাবিক। কেননা তাদের কাপ জেতার সামর্থ্য রয়েছে। আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিল, জার্মানি বা পর্তুগাল নিয়েই মূলত আলোচনা হচ্ছে। দুই স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তারা ততটা আলোচনায় নেই। বলা হচ্ছে এরা আর কত দূর যাবে? বত্রিশই হতে পারে তাদের শেষ দৌড়।

মেক্সিকো কী করবে বলা মুশকিল। যুক্তরাষ্ট্র দুই ম্যাচে যে দাপুটে খেলাটা খেলল তাতে শেষ আটে উঠে যায় কি না দেখার বিষয়। গ্রুপ পর্বে ফেবারিটদের পাশাপাশি যে দেশকে ঘিরে রীতিমতো আলোচনার ঝড় উঠেছে তার নাম কেপ ভার্দে। হবে না কেন, এরা অভিষেক আসরে যা ঘটিয়েছে ৯৬ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে কখনো ঘটেনি। ‘এইচ’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ে। আছে সৌদি আরবও। অনেকের ভাবনা ছিল এ পুঁচকে দেশ আর কী করবে? বড়জোর সৌদি আরবের ঘাম ঝরাতে পারে। হয়তো এ ক্ষেত্রে আমিই ছিলাম ব্যতিক্রম। কেপ ভার্দের অভিষেক ম্যাচের আগে লিখেছিলাম এরা একেবারে খালি হাতে ফিরবে না। চমক দেখালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তাই বলে এতটা চমক! সত্যিই আমি ভাবিনি। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে দেশটির দুরন্ত পারফরম্যান্স ও ভিডিওতে খেলোয়াড়দের ফিটনেস দেখেই চমকের গন্ধ পাচ্ছিলাম। কিন্তু তা যে স্পেনকে রুখে দিয়ে শুরু করবে কে জানত। সৌদি আরবের বিপক্ষে জয় কিংবা বড়জোর ড্র এটাই ছিল ধারণা। তার আগেই নতুন এক রূপকথা লিখে ফেলল কেপ ভার্দে। আমি বলব এরই মধ্যে তারা রূপকথাকেও হার হানিয়েছে। অভিষেক আসরেই দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের পয়েন্টে ভাগ বসিয়েছে। ১৯৩০ সালে শুরু হওয়ার পর বিশ্বকাপে এ এক বিস্ময়কর ঘটনা।

প্রথম ম্যাচে না হয় কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়োর দৃঢ়তায় ভাগ্যদোষে জিততে পারেনি ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। যে খেলাটা খেলেছিল তাতে তো সাবেক চ্যাম্পিয়নরা গোল উৎসবে মাঠ ছাড়তে পারত। দুর্ভাগ্যক্রমে ড্র করেছে। স্পেন পয়েন্ট হারানোর পর অনেকে ভেবেছিলেন এটি নিছক দুর্ঘটনা। কিন্তু পরের ম্যাচেই ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে রুখে দেওয়াটা কি দুর্ঘটনা বলা যায়? আমি বলব, যদি কেউ বলেন তাহলে কেপ ভার্দের প্রতি অবিচার করা হবে। কেপ ভার্দে নয়, উরুগুয়ে যে ম্যাচ হারেনি এটাই তাদের ভাগ্য। স্পেনের দিন দৃষ্টি কেড়েছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়ো। উরুগুয়ের বিপক্ষে দলের সবাই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ২-২ গোলে ড্র করলেও প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল কেপ ভার্দে। যাক, এর পরও প্রথমার্ধে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মনে হচ্ছিল কেপ ভার্দে প্রথম হারের খাতায় নাম লেখাবে। না, কেপ ভার্দে গোল শোধ করে জেতার সম্ভাবনাও জাগিয়েছিল। দুর্ভাগ্য তারা জয়ের বদলে ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচে শুধু গোলরক্ষক নন, সব পজিশনেই নজর কেড়েছিল। স্পেন ‘এইচ’ গ্রুপে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও এখন কেপ ভার্দেরও নকআউট পর্বে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। ২৭ জুন তারা গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে সৌদির বিপক্ষে। একই সময় আবার দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে। যে চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে তাতে স্বাভাবিকভাবেই দর্শক এখন তাদের দিকে চোখ ফেলে রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights