লৌহজংয়ে পদ্মায় প্রবল ঢেউ, ভাঙন আতঙ্কে সহস্রাধিক পরিবার

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীতে দেখা দিয়েছে প্রবল ঢেউ ও তীব্র স্রোত। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙনের আশঙ্কা। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার সিংহেরহাটি, নওপাড়া, রাউৎগাঁওসহ কয়েকটি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পদ্মা অববাহিকাতেও। গত কয়েকদিন ধরে নদীতে পানি বৃদ্ধি, প্রবল বাতাস ও বড় বড় ঢেউয়ের কারণে নদীতীরের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে।

সোমবার সকালে সরেজমিনে সিংহেরহাটি, নওপাড়া ও রাউৎগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তীব্র স্রোতের আঘাতে তীররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা জিও ব্যাগ সরে গেছে। কোথাও কোথাও ধসে পড়েছে বাঁধের অংশ। এতে নদীতীর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনই নদীর পাড়ের কিছু না কিছু অংশ ভেঙে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতে নদীর গর্জন ও প্রবল ঢেউয়ের শব্দে আতঙ্কে ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই। কেউ কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, ভাঙন শুরু হলে শুধু বসতভিটাই নয়, শত শত একর ফসলি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হবে। এতে বহু পরিবার জীবিকা হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়বে।

এলাকাবাসী পুতুল বেগম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দ্রুত অতিরিক্ত জিও ব্যাগ ফেলা, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ জোরদার করা এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই আতঙ্কে থাকতে হয়। অন্য এলাকায় স্থায়ী বাঁধের কাজ হলেও তাদের এলাকায় এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হবে।

এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ভাঙনের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেলে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল অবিলম্বে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights