সিডনিতে জেল হত্যা দিবস শীর্ষক আলোচনা সভা

অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিঃ রবীন বনিকের সভাপতিত্বে এবং অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মোল্লার সঞ্চালনায় গত ৫ নভেম্বর (রবিবার) সিডনির একটি ফাংশন সেন্টারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং তার ঘনিষ্ঠ সহচর মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী সংগঠক জাতীয় চার নেতাকে জেলে নৃশংস হত্যার তীব্র নিন্দা এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মিনিট নিরবতা পালন ও তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক গোল টেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচক-বৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডঃ কাইউম পারভেজ (অনলাইনে), গবেষক ডঃ তুষার দাস, ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ সিদ্দিক, অস্ট্রেলিয়া ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অপু সারোয়ার, সমাজ-সেবক মিঃ রবার্ট বাড়ৈ প্রমুখ। বক্তাগণ তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের ঘৃণ্য পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ ছিল ৩ নভেম্বরের জেল হত্যা দিবস। এই নৃশংস মৃত্যুর মাধমে অসাস্প্রদায়িক চেতনার দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়, রুদ্ধ হয় বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ-যাত্রা। সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশটি হয়ে পরে নেতৃত্বহীন, গণতন্ত্র হয় বন্দী। বর্তমানে স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি গুলি তাদের মনোবল ফিরে পেলেও, দৃঢ়তা নিয়ে এখনো সেই পরাজিত শত্রুর হাত থেকে মুক্ত হতে পারেনি। কারণ আগে তারা রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত ছিল কিন্তু আজ তারা রাজাকার, অরাজাকার, স্বার্থান্বেসী বিভিন্ন নামে আমাদের দেশেরই একটি অংশ হিসেবে প্রতিনিয়ত আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে চলছে।

বক্তাগন আরও বলেন, আগামী প্রজম্মকে আমাদের সত্য ইতিহাস তুলে ধরতে হবে, তাদের কাছে আমাদের দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানসহ এই চার নেতার কি ভূমিকা ছিল তা তুলে ধরতে হবে, নতুন প্রজম্মকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুসহ চার-নেতার জীবনীর উপর বিভিন্ন ধরনের রিসার্স বা প্রজেক্ট তৈরি করার প্রকল্প হাতে নিতে হবে, যাতে করে তারা আমাদের জাতীয় নেতাদের দেশ গঠনে অবদান বুঝতে পারে এবং তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারে।
তারা আরো উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের আরো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। বিরোধীদলগুলো যেভাবে মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে, সেখানে আমরাই পারি সত্য-সংবাদ প্রচারনার মাধমে দেশের অগ্রগতি তুলে ধরতে। পরিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুনভাবে শপথ নেয়ার অঙ্গীকার জানিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights