সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ চেয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক
পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের (আপিল ও হাই কোর্ট) সব এজলাসে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছে আইন, বিচার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম। চিঠিতে, সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের স্বার্থে মামলার শুনানিতে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি হাসান জাবেদ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশনের স্বাক্ষরে এই চিঠি আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতিকে দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি প্রসঙ্গে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সাংবিধানিক, জনস্বার্থ ও জনগুরুত্বপূর্ণ মামলা সর্বোচ্চ আদালতে শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। সংবিধানের রক্ষক হিসেবে নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা সংক্রান্ত মামলায় সর্বোচ্চ আদালত অভিমত, পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ এসব সিদ্ধান্ত ও তথ্য বিচার প্রার্থীসহ সাধারণ মানুষের জানার আগ্রহ রয়েছে। এ কারণে আদালত সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিট (সংবাদ ক্ষেত্র) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যমের কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সংগ্রহের জন্য আসেন। আদালতে উপস্থিত থেকে জনগণকে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে সাংবাদিকেরা দায়বদ্ধ।

ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম উল্লেখ করে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা ও সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে উন্মুক্ত আদালতে বিচারের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট রুলসের আদেশ ১০-এ উন্মুক্ত আদালতে রায় ও আদেশ প্রদানের কথা উল্লেখ্য রয়েছে। এছাড়া প্রকাশ্য আদালতে রায় ও আদেশ প্রদানে অধস্তন আদালতের প্রতি ২০২১ সালে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে।

ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম মনে করে, সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে অত্রন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে আসছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে ও পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী ও পঞ্চদশ সংশোধনী, ২১ আগস্ট গ্রেনেডে হামলা এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার সংবাদ প্রকাশ্য আদালতে উপস্থিত থেকে গণমাধ্যম কর্মীরা সংগ্রহ করেছেন, যা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চলমান।

অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে প্রধান বিচারপতিকে জানানো হয়, গত ৭ জানুয়ারি থেকে আপিল বিভাগসহ হাইকোর্ট বিভাগের কোনো কোনো বিচারকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এমনকি আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশেও সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে মামলার শুনানি ও সিদ্ধান্তের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। আপিল বিভাগে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার চেয়ে গত ১৯ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি ফোরাম চিঠি দিয়েছিল, উল্লেখ করে বলা হয়, বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights