সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে টাকা ছিনতাই, ঢাবি ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেফতার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ছিনতাইয়ের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী মামলা করার পর তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নুর উদ্দীন আহমেদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুনতাসীর। তারা দুজনই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

নুর উদ্দীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক আর আবদুল্লাহ আল মুনতাসীর শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক ছাত্রলীগের সহসভাপতি। দুইজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী। এই দুইজনকে আটকের সময় মো. রাজিব নামে একজন পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর নাম জুবায়ের আহমেদ। তিনি পল্টন সিটি হার্ট মার্কেটের রংধনু ফ্যাশন নামক একটি দোকানে কাজ করেন।

শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, পরিচিত একজনের কাছ থেকে মোটরসাইকেল কিনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি আসেন। মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের আসতে দেরি হওয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উদ্যানের গ্লাস টাওয়ারের পশ্চিম পার্শ্বে প্রস্রাব করে দাঁড়ানোমাত্র দুইজন এবং তাদের আরও একজন সহযোগী ঘিরে ধরে এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করে।

ভুক্তভোগী বলেন, তারা আমার কাছে যা আছে সব দিয়ে দিতে বলে। আমি দিতে অস্বীকার করলে আমার মাথায়, মুখে কিল-ঘুষি দিয়ে আহত করে এবং আমার প্যান্টের পেছনের ডান পকেটে রাখা মানিব্যাগ থেকে পনেরো হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। মুনতাসির নামে একজন মোবাইল দিয়ে আমার ছবি তোলে এবং আমার পিতার মোবাইল নম্বর নিয়ে তার মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে।

অভিযোগে ভুক্তভোগী আরও বলেন, তারা আমাকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে চলে যাওয়ার সময় আমি তাদের পা ধরে টাকা ফেরত চাইলে তারা পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দ্রুত চলে যায়। তারপর আমি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনা জানালে তাৎক্ষণিক শাহবাগ থানার এসআই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আমার নিকট হাজির হন। আমি ঘটনা খুলে বলি।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আসামিরা ভুক্তভোগীর পিতার নম্বরে ফোন দেয়। এটাই তাদের জন্য কাল হয়েছে। এর মাধ্যমে আসামির নম্বর সংগ্রহ করে তাদের আরও টাকার লোভ দেখিয়ে জাদুঘরের সামনে আসতে বলা হয়। এতে তারা দুইজন আরও টাকা নেওয়ার জন্য রাত সাড়ে আটটার দিকে আসলে আমরা তাদের আটক করি। এরপর ভুক্তভোগী তাদের শনাক্ত করেন। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এ সময় আসামিদের দুইজনের পকেট থেকে আড়াই হাজার টাকা করে মোট পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, আমরা এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাহায্য করেছি। ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়িত হলে ছাত্রলীগে তাদের জায়গা হবে না। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights