২৪৫ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, বিলাসী জীবনের আড়ালে ছিল যে ভয়ংকর কাণ্ড
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ২৪৫ মিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন চুরি ও অর্থ পাচারের ঘটনায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন সিঙ্গাপুরের নাগরিক ম্যালোন ল্যাম। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনাগুলোর একটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানায়, ২২ বছর বয়সী ল্যাম তাঁর বন্ধু ও সহযোগীদের নিয়ে গড়ে তোলা একটি আন্তর্জাতিক চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল পরিমাণ বিটকয়েন চুরি করেন। পরে সেই অর্থ পাচার করে বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করা হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, কোনো কোনো রাতে ল্যাম ও তাঁর সহযোগীরা নাইটক্লাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ করতেন। তাঁরা এক লাখ থেকে ৩৮ লাখ ডলার মূল্যের একাধিক বিলাসবহুল গাড়িও কিনেছিলেন।
‘অ্যান হ্যাথাওয়ে’, ‘কিং গ্রেভি’ নামেও পরিচিত ছিলেন ল্যাম। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা এবং চক্রের সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করতেন তিনি। প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে গোপন তথ্য নিয়ে কখনো কখনো তাঁদের বাড়িতে ঢুকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এসব তথ্য ব্যবহার করে তাঁদের ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট খালি করা হতো।
চুরি করা অর্থে হার্মিস বার্কিন ব্যাগ, পাঁচ লাখ ডলার পর্যন্ত মূল্যের ঘড়ি, দামি পোশাক, বিলাসবহুল বাড়ি ও ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়া করা হয়।
ল্যাম ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তিনি দেশটিতে থেকে যান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এফবিআই তাঁকে ও এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।
ল্যামের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তাঁর সহযোগী ইভান ট্যাঙ্গেম্যানকে চলতি বছরের এপ্রিলে ৭০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বিবিসি
