কেইপিজেডে যাত্রা শুরুর অপেক্ষায় টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়
ইমরান এমি, চট্টগ্রাম
আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ সুবিধা নিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। ২৫ একর জমিতে নির্মিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০০ শিক্ষার্থী পোশাকশিল্পের ওপর চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা (এমএসসি) কোর্সে পড়ালেখা করবে। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিভিন্ন মেয়াদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সুবিধা রেখে নির্মিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি ক্যাম্পাস। সঙ্গে আছে গ্যালারিযুক্ত খেলার মাঠ ও সুইমিংপুল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে বা আগামী বছরের শুরুতে ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে নতুন দিগন্ত রচিত হবে।
কেইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান বলেন, কেইপিজেড টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে সাতটি ক্যাম্পাস নির্মিত হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেইপিজেড ও ইয়ংওয়ান গ্রুপের ৮০ হাজার শ্রমিক কর্মচারী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করার সুযোগ পাবেন। পোশাকশিল্পে দক্ষ জনশক্তি ও শ্রমিকদের প্রফেশনাল স্কিল, পোশাক তৈরির পেশাগত দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশের পোশাক ও কারিগরি শিল্পে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এর মধ্যে পোশাক ডিজাইন ও প্যাটার্ন তৈরি, বিভিন্ন ধরনের টেক্সটাইল সামগ্রীর জ্ঞান, সেলাই ও পোশাক তৈরির বিভিন্ন ধাপ, সেই সঙ্গে কারিগরি দক্ষতা যেমন ওয়েল্ডিং, রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং, বিভিন্ন মেশিনারিজ মেইনটেন্যান্স ইত্যাদি প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। তারই ধারাবাহিকতায় পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের দক্ষতা অর্জনের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ফ্যাশন ডিজাইনসহ যাবতীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও চার বছর মেয়াদি টেক্সটাইল ফ্যাশন ডিজাইনের ওপর গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালু এবং কোরিয়ান ইপিজেড ও ইয়ংওয়ান গ্রুপে কর্মরত ৮০ হাজার শ্রমিক কর্মচারীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিসহ দেশের বৃহত্তর গোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের জন্য ইয়ংওয়ান গ্রুপ ও কোরিয়ান ইপিজেডের চেয়ারম্যান কি হাক স্যাংয়ের পরিকল্পনায় কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে ২৫ একর জমিতে বিশ্বমানের টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে। ৮০০ শিক্ষার্থীর আবাসনসুবিধাসহ সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সব ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে।
কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের প্যাটার্ন তৈরি, পোশাক ডিজাইন করা, বিভিন্ন মাপের পোশাকের জন্য প্যাটার্ন তৈরি করা এবং তা কাপড়ে স্থানান্তর করার প্রশিক্ষণ, কাপড়ের গঠন, প্রকারভেদ এবং যত্ন নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান, বিভিন্ন ধরনের সেলাই মেশিন পরিচালনা করা, পোশাকের বিভিন্ন অংশ জোড়া দেওয়া এবং ফিনিশিংয়ের কাজ ভালোভাবে জানা, পোশাক তৈরির জন্য ব্যবহৃত মেশিনের ত্রুটি নির্ণয় এবং মেরামত করার প্রশিক্ষণ, ইলেকট্রিক্যাল মেইনটেন্যান্স, অটোক্যাড, কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন সফটওয়্যার ব্যবহার করে নকশা তৈরি করার প্রশিক্ষণ, ওয়েল্ডিং ইত্যাদি প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কারিগরি দক্ষতা অর্জনে এই বিশ্ববিদ্যালয় অবদান রাখবে।
