ঘোড়ার মাংসের অবৈধ কারবার
সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ বিভাগে ঘোড়া জবাই ও মাংসের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহের নান্দাইল ও মুক্তাগাছায় উদ্ধার হয়েছে ঘোড়ার চামড়া, মাথা, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি। অন্যদিকে জামালপুরে ঢাকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় সরবরাহের উদ্দেশে নেওয়ার সময় জব্দ করা হয়েছে পিকআপভর্তি প্রায় ৯৫০ কেজি ঘোড়ার মাংস। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এসব মাংসের কোনো অংশ গরুর মাংস বলে বিক্রি হয়ে থাকতে পারে।
জানা যায়, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গত ২৯ অক্টোবর ৩৫ বস্তা ঘোড়ার হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি উদ্ধারের ঘটনায় আলোচনায় এসেছে ঘোড়ার মাংসের কারবার। এর আগে ১৪ আগস্ট নান্দাইলের চর লক্ষ্মিদিয়া সেতু এলাকায় পাওয়া যায় ঘোড়ার চামড়া, মাথা ও পা ভর্তি তিনটি বস্তা। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কানুরামপুর, চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ড, ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ ও মধুপুর বাজারে এ ধরনের মাংস সরবরাহ হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়রা উদ্ধারকৃত দেহাবশেষের ডিএনএ বা অন্যান্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান। উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমানের তথ্যমতে, ২০১১ সালের পশু জবাই ও মাংস নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা অনুযায়ী বাজারে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মাংসের উৎস যাচাইয়ের মূল দায়িত্ব প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাজারে নজরদারি বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ আগস্ট জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি ইউনিয়নের মিরাপুর ঘাট এলাকায় পিকআপভর্তি প্রায় ৯৫০ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ করে পুলিশ। ১৩টি ঘোড়া জবাই করে এসব মাংস সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে জানান নরুন্দি থানার ইনচার্জ মো. নাজমুল হক। তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সরবরাহের উদ্দেশে নেওয়ার সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। জব্দ মাংস মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়।
আইনগত দিক থেকে ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ২০১১ সালের পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, উটসহ কয়েক প্রজাতির প্রাণীর উল্লেখ থাকলেও ঘোড়ার নাম নেই। ফলে ঘোড়া জবাই ও মাংস বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণে আইনি অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে অসুস্থ বা মৃত পশুর মাংস বিক্রি এবং গরুর মাংসের নামে অন্য প্রাণীর মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জামালপুরের এ ঘটনা ঘোড়ার মাংস সংগ্রহ ও পরিবহনের একটি বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এ মাংসের প্রচলন নেই। এরপরও কয়েকটি ঘটনায় আমরা সোচ্চার হয়েছি।’
ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘ঘটনাটি উদ্বেগজনক। আমরা মূল চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছি। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা সফল হব।’
