টাইফুন চাম্পির জন্য পূর্ব এশিয়াজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল
অনলাইন ডেস্ক
শক্তিশালী বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে টাইফুন চাম্পির আগমন ঘিরে শুক্রবার কার্যত অচল হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। ঝড়টি দুর্বল হয়ে এলেও দ্বীপটিতে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা এখনো রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, টাইফুন চাম্পির প্রভাবে শুক্রবারের জন্য নির্ধারিত তাইওয়ানের সব ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং ৬৬০টির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।
শক্তিশালী ঝড়ের আগাম সতর্কতা হিসেবে রেল ও ফেরি চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের (সিডব্লিউএ) তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া এবং এবং চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট অন্যতম শক্তিশালী ঝড় চাম্পির কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার (১১৯ মাইল) ছিল।
আবহাওয়া প্রশাসন জানায়, ঝড়টি তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে এগিয়ে চীনের উপকূলের দিকে উত্তরমুখী হবে। পরে দক্ষিণ জাপানের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা রয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে তাইওয়ানে একজন নিহত ও ৯৪ জন আহত হয়েছেন। দেশটির সরকার জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিডব্লিউএর পূর্বাভাসক লিউ পেই-তেং রয়টার্সকে বলেন, তাইওয়ানের কাছে এসে ঝড়টি যদি স্থির হয়ে পড়ে, বৃত্তাকারে ঘোরে কিংবা এদিক-সেদিক দুলতে থাকে, তাহলে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় ঝড়গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ঝড়টি ধীরগতির হলে তাইওয়ানে দীর্ঘ সময় ধরে প্রবল বাতাসের প্রভাব থাকবে।’
উপকূলীয় শহরগুলোতে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা বাতাসের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। রাজধানী তাইপের আশপাশসহ উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইলান কাউন্টিতে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়ছিল। শুক্রবার দিনের শেষ দিকে ওই এলাকার কাছ দিয়ে টাইফুনটি অতিক্রম করার পূর্বাভাস থাকায় কর্তৃপক্ষ বালুর বস্তা বিতরণ করেছে। পাশাপাশি উভচর যান ও বাতাসে ফোলানো যায় এমন উদ্ধারকারী নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।বন্দরনগরী সুয়াওয়ের প্রধান লি মিং-চেন বলেন, ‘প্রয়োজন হলে মানুষকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। সরিয়ে নেওয়া ও দুর্যোগ মোকাবিলায় উভচর যান ব্যবহার করা হতে পারে।’
এর আগে বিভিন্ন টাইফুনে শহরটি মারাত্মক বন্যার কবলে পড়েছিল।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স,বিবিসি
