নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়রের কালো টাকা “সারা এক্সপ্রেস”-এ বিনিয়োগের অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র শহিদুল্লাহ খান সোহেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠেছে। তাঁর অবৈধ উর্পাজনের কালো টাকা সাদা করতে পরিবহণ প্রতিষ্ঠান “সারা এক্সপ্রেস” বাসে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। তাই ফ্যাসিস্টের অর্থে পরিচালিত ‘সারা এক্সপ্রেস’-এর কার্যক্রম বন্ধের দাবি তোলা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক বক্তব্যে বিএনপি কর্মী মাসুদ অভিযোগ করেন, নোয়াখালী পৌরসভায় দায়িত্ব পালনকালে দীর্ঘ ১৭ বছরে সাবেক মেয়র শহিদুল্লাহ খান সোহেল বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘সারা এক্সপ্রেস’-এর প্রকৃত মালিক সাবেক মেয়র এবং তার ঘনিষ্ঠজনেরা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
মাসুদের আরও অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট দেশত্যাগের আগে সাবেক মেয়র বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ রেখে যান। বর্তমানে ওই অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ কাজে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তাকে সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ করেন মাসুদ।
এ সময় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাসুদ বলেন, স্বৈরাচারের দোসরদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
এদিকে, আধুনিক সুবিধা ও উন্নত সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘সারা এক্সপ্রেস’ পরিচালিত হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পুরোনো বাস রং পরিবর্তন করে নতুন বাস হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা। এতে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, কুমিল্লায় যাত্রাবিরতির সময় প্রতিষ্ঠানটির ফুড ভ্যালি রেস্তোরাঁয় নিম্নমানের খাবার পরিবেশন এবং অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।
তবে সাবেক মেয়র শহিদুল্লাহ খান সোহেল পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ‘সারা এক্সপ্রেস’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর হোসেন জাবেদ জানান- এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সারা এক্সপ্রেস সম্পূন্ন বৈধ অর্থে, বৈধভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।
রেস্তোরাঁয় নিম্নমানের খাবার পরিবেশন এবং অতিরিক্ত বিল আদায়ের বিষয়ে তিনি জানান, এই ধরনের কোন অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে উন্নত খাবার ও ন্যায্য বিলের ব্যবস্থা করা হবে।
