‘পিচ্চি রাজার’ পলায়ন নিয়ে তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য, দুই পুলিশ সদস্য গ্রেফতার
অনলাইন ডেস্ক
আলোচিত ৩০ মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়নের ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, গাজীপুর নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পালিয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পিচ্চি রাজার বোনসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। পুলিশ কমিশনার জানান, তদন্তে দেখা গেছে, ২৯ জন আসামিকে নিয়ে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে স্কট পার্টি প্রিজন ভ্যানে রওনা দেওয়ার পর তাঁতীবাজার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে এসে ভ্যানটি থামে।
এ সময় স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর বিশ্বাস ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজন ভ্যানের চাবি নিয়ে আসামি পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি বাশারকে ভ্যান থেকে বের করে সামনের দিকে নিয়ে যান। খাইরুল বাশার প্রিজন ভ্যানের ড্রাইভারের সিটের পাশে বসেন। এ সময় পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রিজন ভ্যানে ওঠেননি। মূলত সেখান থেকেই অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পালিয়ে যান পিচ্চি রাজা।
পরবর্তী সময়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসআই প্রবীর মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনাস্থলে এসে প্রিজন ভ্যানে ওঠেন। এরপর স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনাটি সাজানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহের পর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার ও ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কমিশনার। তিনি জানান, এ সময় ড্রাইভার কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে (৩০) আট দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
তাদের মধ্যে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে শনিবার দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি তিনজনকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
