বেন স্টোকসের ফেরার পথ বলে দিলেন ইংলিশ পেসার
অনলাইন ডেস্ক
চলতি বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আচমকা অবসরের ঘোষণা দেন ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। তিনি এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের প্রতি প্রতি মনোযোগী হচ্ছেন। তবে অনেকে এই ক্রিকেটারের আবারও জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।
ক্রিস ওকসের মতে, বেন স্টোকসের অধ্যায়টি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বিট্রিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর সঙ্গে সাম্প্রতিক এক কথোপকথনে ইংল্যান্ডের এই পেসার জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস, প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং সাবেক কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
বেন স্টোকসের সঙ্গে অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ক্রিস ওকস, তাই তাকে তিনি খুব ভালোভাবেই চেনেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০২৫-২৬ অ্যাশেজ সিরিজে হারের পর, স্টোকসের চরম ক্লান্তি দেখে ক্রিস ওকস নিজেও অবাক হয়েছিলেন। দলের ফলাফল মোটেও ভালো ছিল না, আর পরবর্তী কয়েকটি সিরিজেও একের পর এক ব্যর্থতার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে অ্যাশেজে হারের মতো একাধিক পরাজয় হয়তো স্টোকসকে জাতীয় দল থেকে অবসরের কথা ভাবতে বাধ্য করেছিল।
আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় অ্যাশেজের আগে বেন স্টোকস কি ইংল্যান্ড দলে ফেরার কথা বিবেচনা করতে পারেন? ক্রিস ওকস এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। অভিজ্ঞ এই পেসার জানান, বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক জো রুটের সঙ্গে স্টোকসের সম্পর্ক খুবই ভালো। রুট যদি স্টোকসকে অবসরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেন, তবে হয়তো বেন স্টোকসকে আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যেতে পারে।
ক্রিস ওকস বলেন, বেনের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, যেকোনো কিছুই সম্ভব। যদিও আমার মনের একটি বড় অংশ বলছে, এমনটা হবে না; আমার মনে হয় সে অবসর নিয়েছে। তবে যদি এমন কেউ থাকে যে বেন স্টোকসকে আবারও খেলার জন্য রাজি করাতে পারে, তবে সে হলো জো রুট। তারা খুব ভালো বন্ধু এবং দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরকে চেনে। জো যদি বেনকে বলে, আমি চাই তুমি শেষ একটি সিরিজের জন্য ফিরে এসো, তবে তা সম্ভব হতে পারে। এটি নিশ্চিতভাবেই দারুণ আকর্ষণীয় কিছু হবে। বেন স্টোকসের ক্ষেত্রে সবসময়ই এমনটা ঘটে।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে সরিয়ে দিয়েছে। তার কোচিংয়ের অধীনে দলটি একটি নতুন ধারার ব্যাটিং পদ্ধতি নিয়ে দারুণভাবে যাত্রা শুরু করেছিল, যার নাম দেওয়া হয় ‘বাজবল’। বাজবল দেখতে যেমন উপভোগ্য ছিল, তেমনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তা বেশ কার্যকরও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন এই বাজবল পদ্ধতি ব্যর্থ হলো?
ক্রিস ওকস জানান, টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুত গতিতে রান তোলা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে একই সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনে খেলার গতি কিছুটা কমিয়ে আনার (গিয়ার পরিবর্তন করার) প্রয়োজন ছিল, যা তারা করতে ব্যর্থ হন। বাজবলের উত্থান ও পতন নিয়ে এই ইংলিশ পেসার বলেন, এমন অনেক মুহূর্ত ছিল যখন আমরা প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলেছিলাম। সেই সময়ে আমরা চাইলে কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারতাম, যাতে প্রতিপক্ষের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই না থাকে।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু এমন অনেকবার হয়েছে যখন আমরা তাদের ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ দিয়ে দিয়েছি। সেই মুহূর্তগুলোতে আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল এবং খেলার গতি কমিয়ে আনার প্রয়োজন ছিল। আমরা সবসময়ই খেলার গতি বাড়িয়েছি, কিন্তু কখনোই তা আর কমিয়ে আনিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ক্রিস ওকস ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হিসেবে পেয়েছিলেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে। ম্যাককালামের অধীনে খেলোয়াড়রা যেমন অনেক বেশি স্বাধীনতা পেতেন, ফ্লাওয়ারের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল ঠিক উল্টো, তিনি কঠোর পরিশ্রমের ওপর জোর দিতেন। অনুশীলনের সেশনগুলো এতটাই কঠিন ছিল, তরুণ বয়সে ওকস অনুশীলনের মাঠে নামতেই ভয় পেতেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেই কঠোর অনুশীলনের রুটিন তার ক্যারিয়ারকে ইতিবাচকভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।
ওকস বলেন, তিনি ছিলেন অবিশ্বাস্য রকমের কঠোর। অনুশীলনে নামতেই আমার ভয় লাগত, কিন্তু সেই সময়ে আমার ঠিক এটাই প্রয়োজন ছিল। তখন আমি তা বুঝতে পারিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু দারুণভাবেই কাজে লেগেছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে আমার যেমন একজন কোচ প্রয়োজন ছিল, ফ্লাওয়ার ঠিক তেমনই ছিলেন; আর ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে আমার যা প্রয়োজন ছিল, ম্যাককালাম ঠিক তা-ই ছিলেন।
