ব্যাংকের জন্য হচ্ছে এআইভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এআইভিত্তিক (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এআই ও নতুন প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে সৃষ্ট সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো শক্তিশালী করা, সাইবার হামলা শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো এবং জটিল আক্রমণ মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদের নির্দেশনা থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হাসান গত রবিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শিগগিরই নীতিমালা প্রণয়ন করে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা হালনাগাদ করবে। সাইবার ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ দল রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঝুঁকি মোকাবিলা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এজন্য সার্বক্ষণিক সতর্কতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়মিত হালনাগাদ প্রয়োজন।
এর আগে আর্থিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে গত ২৯ মার্চ ‘সাইবার সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক, ভার্সন ১.০ (২০২৬)’ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় তফসিলি ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী এবং পেমেন্ট সার্ভিস ও সিস্টেম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাঠামো বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাঠামোটিতে ঝুঁকি ও দুর্বলতা শনাক্ত, সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত, সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ, আক্রমণ মোকাবিলা, স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন তৈরির ছয়টি কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর সুরক্ষা, নিরাপত্তা নিরীক্ষা, তৃতীয় পক্ষের সেবাদাতাদের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আর্থিক খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরনও জটিল হচ্ছে। এআই ব্যবহার করে অপরাধীরা বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া বার্তা তৈরি, পরিচয় নকল, স্বয়ংক্রিয় সাইবার হামলা এবং গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে পারে। অন্যদিকে এআই প্রযুক্তি সন্দেহজনক লেনদেন ও অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত করতেও সহায়তা করে। সাইবার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে গত ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘটনায়। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার কয়েকটি নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তা পর্যালোচনা শেষে ২৫ অক্টোবর সকাল ৮টায় এটি আবার চালু করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, কোনো ব্যাংকের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়নি এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমেও ঝুঁকি নেই। ব্যাংকাররা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁদের ব্যাংক সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করছে। এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
