মহাসড়কে বিপদ বাড়াচ্ছে ‘ছোট দানব’
আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়ার মহাসড়কে এখন বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে থ্রি-হুইলার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। বড় যানবাহনের চালকরা এদের ‘ছোট দানব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বগুড়ার ওপর দিয়ে অন্তত ১০ জেলার বাস রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলে চলাচল করে; গড়ে যে যানগুলোর গতি ১০০ কিমি থেকে ১২০ কিমি। দূরপাল্লার এই বাস, ট্রাক ও অন্যান্য দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে এসব ত্রিচক্রযান। শুধু চলাচলই নয়, অবৈধ স্ট্যান্ডও গড়ে উঠেছে মহাসড়কের ওপর।
হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়ন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বগুড়া অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ২৪৭টি দুর্ঘটনায় ২৩২ জন নিহত ও ১৫৮ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন ঘটনায় মামলা হয়েছে ২১০টি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে বগুড়া হাইওয়ে পুলিশ রিজিয়ন তৎপর না থাকায় উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে দুর্ঘটনা। অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন পথচারীরা।
অভিযোগের ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দিন জানান, মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তাঁর মন্তব্য, মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে মালিক-শ্রমিক-যাত্রী সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। থ্রি-হুইলার বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যহত রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও জনসচেতনতা। তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়নের জনবল সংকট থাকার কারণে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-বগুড়া-রংপুর চার লেনের মহাসড়কে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মূল লেনে অবাধে চলছে একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চার্জার রিকশা ও ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার। সার্ভিস লেনের নিয়ম না মেনে মূল মহাসড়কে বিপজ্জনকভাবে চলাচল করছে এসব যানবাহন। এ ক্ষেত্রে এই অরাজকতা যাদের বন্ধ করার কথা সেই হাইওয়ে পুলিশের টহল দেখা গেছে খুব কম। বগুড়াসহ উত্তর অঞ্চলের মহাসড়কে এ বছর সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভটভটি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি। সম্প্রতি বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে পৃথক দুর্ঘটনায় ১২ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে মহাসড়কে এসব যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা তা মানছেন না।
