মাদুরোকে যে কৌশলে আটক করে মার্কিন বাহিনী

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া অ্যাডেলা ফ্লোরেসকে তুলে এনেছে। দেশটির রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এমন দাবি করেছেন।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জানুয়ারি প্রথম প্রহরে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার শুরু। ঘড়ির কাটায় সময়টা রাত ২টা, পুরো কারাকাস তখন গভীর ঘুমে। গুমট অন্ধকার আর নিস্তব্ধতা ভেঙে আকস্মিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা। পরের ১ ঘণ্টার মধ্যে শহরজুড়ে অন্তত সাত থেকে নয়টি বিস্ফোরণ ঘটে, যেগুলোর লক্ষ্য ছিল দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, এ হামলায় কারাকাসের ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি, লা কার্লোটা এয়ারবেস, এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের সমাধি থাকা কুয়ের্তেল দে লা মনতানিয়াও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টারের রোটরের শব্দ, বিস্ফোরণ, ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর দক্ষিণ ও পশ্চিম কারাকাসের একাংশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীজুড়ে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম দাবি করেছে, হামলায় অন্তত নয়টি সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে এএইচ–৬৪ অ্যাপাচি, এএইচ–১জেড ভাইপার ঘরানার হেলিকপ্টারও থাকতে পারে, যেগুলো মূলত বিভিন্ন লক্ষ্যে রকেট হামলার পাশাপাশি ভারী গোলাবর্ষণ করেছে। সিবিএস নিউজ–কে উদ্ধৃত করে কিছু গণমাধ্যম বলছে, কয়েক দিন আগেই এ অভিযানের জন্য সবুজ সংকেত বা সম্মতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, বৃহৎ আকারের এ বিমান ও হেলিকপ্টার অভিযানের মধ্য দিয়েই মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে দ্রুত আটক করে ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যেখানে প্রচলিত স্থল অভিযান বা দীর্ঘ দখল নয় বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক আঘাতের মাধ্যমে এক ধরনের ‘ডেকাপিটেশন স্ট্রাইক’ পরিচালনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেয়া।

এদিকে, এ ঘটনায় ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মিত্ররা নিন্দা জানিয়েছে। স্পেন শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

ঘটনার পর এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে দ্য নিউইর্য়ক টাইমসের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। নিউইর্য়ক টাইমসের প্রতিবেদক ৫০ সেকেন্ড ফোনে কথা বলেন ট্রাম্পের সঙ্গে। নিউইর্য়ক টাইমসের প্রতিবেদক বলেন, আজ কী ঘটেছে এবং এরপর কী হতে পারে, তা ভালোভাবে বোঝার জন্য প্রেসিডেন্টকে ফোন করি আমি। তিনবার রিং হওয়ার পর তিনি ফোন রিসিভ করেন এবং উত্তর দেন কয়েকটি প্রশ্নের। তিনি বলেন, প্রথমে ট্রাম্প এই অভিযানের সাফল্য উদযাপন করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ”অনেক ভালো পরিকল্পনা ছিল এবং অসাধারণ, অসাধারণ সেনা ও মানুষ এতে জড়িত ছিলেন। আসলে এটি ছিল একেবারেই চমৎকার একটি অভিযান।” এরপর আমি জানার চেষ্টা করি, সামাজিক মাধ্যমে তিনি যাকে ‘বড় পরিসরের হামলা’ বলেছেন, সেই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যুক্ত হওয়ার আগে তিনি কি কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়েছিলেন। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ”এটা আমরা আলোচনা করব। একটি সংবাদ সম্মেলন হবে।” সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, আল-জাজিরা, নিউইর্য়ক টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights