‘মোর আর কিছু থাকিল না, নদী সউগ নিয়া গেইল’

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচারীপাড়ার শাহজাহান মিয়া ১১ একর জমি, ৮০ শতকের ওপরের বসতভিটা এবং দেড় একরের একটি পুকুর তিস্তা নদীতে হারিয়েছেন।

বুধবার বিকেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মোর আর কিছু থাকিল না। সউগ নদী কাড়ি নিল। প্রশাসন, এমপিক কত কনু নদী কোনা বান্দি দেন। কাউয়ো মোর কতা শুনিল না। এই যে নদী সউগ নিয়া গেইল,
মোর এই ক্ষতি কায় পুষে দিবে।

শুধু শাহজাহান মিয়া নয় গত দু’দিনে নোহালী ইউনিয়নের নোহালী গ্রামের আব্দুল করিম, কাচারীপাড়ার সুরুজ মিয়া, সাহাজুল মিয়া, সুলতানা বেগমের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে ভাঙনের মুখে রয়েছে নোহালী চর বাগডোহরা, চিলাখাল, কাচারীপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দিরসহ রাস্তাঘাট।

জানা গেছে, উজানের ঢলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় নদীর পানির তোড়ে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় গত দু’দিনে পাঁচটি বসতভিটা, ফসলি জমি ও পুকুর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সম্প্রতি গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের নোহালী গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধ ভেঙে নদীর পানি গ্রামে ঢুকে পড়েছে। ফলে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

তিস্তা নদীর গর্ভে বসতভিটা হারানো নোহালী গ্রামের আব্দুল করিম মিয়া বলেন, ‘তিস্তার পানির তোড়ে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধের প্রায় দেড়শ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নোহালীতে ভাঙন রোধে সাড়ে ৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বরাদ্দকৃত জিও ব্যাগ নদীতে ফেলা শুরু হয়েছে। আশা করছি, ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights