শেষ হলো রাকসুর মেয়াদ, নতুন নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা
রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ফলে গঠনতন্ত্র অনুসারে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচনের কথা ভাবছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে অবিলম্বে নির্বাচন চান রাকসু নেতারা। ফলে নতুন কমিটির নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, এক বছর পূর্ণ হওয়াই এই কমিটির মেয়াদ শেষ। দীর্ঘদিন পর রাকসু হয়েছে, আমরাও চাই এ ধারা সচল থাকুক। তবে ক্যাম্পাসে নির্বাচনের যথাযথ পরিবেশ তৈরি হলেই নতুন কমিটির নির্বাচন দেওয়া হবে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনারও প্রয়োজন আছে।
এর আগে, গত বছর দীর্ঘ তিন যুগ পর ১৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এতে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সহসভাপতি (ভিপি) ও সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২০টি পদে জয়ী হয়। হল সংসদের প্রায় সব পদেই ভূমিধস জয় পায় শিবির সমর্থিত প্যানেল। আধিপত্য বিরোধী প্যানেল থেকে নির্বাচিত জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল অনেক মহলের। কিছুদিন আগে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানায় শাখা শিবির। তবে এই সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন আম্মার। ক্রীড়া সম্পাদক পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের একজন নির্বাচিত হন।
রাকসু ভিপি মোস্তাকুর জাহিদ বলেন, ভিসি স্যার নির্বাচন দিতে চান। তবে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেই। তিনি আসলেই নির্বাচনী ধারাবাহিকতা সচল রাখতে চান কিনা, এটা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি এখন সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন কিনা সেটাও ভাবার বিষয়।
জানা গেছে, ১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র সংসদ। সামরিক শাসনের কারণে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে ১৯৬২ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘রাকসু’ করা হয়। ১৯৮৯ সালে ১৪তম নির্বাচনের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর রাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
রাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র হিসেবে ছাত্র সংসদ থাকা দরকার। তবে কেউ কেউ মনে করেন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অনেকাংশে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হতে পারছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি রায়হান ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম সক্রিয় রেখে রাকসু নির্বাচন অথবা রাজনৈতিক সংগঠনের ছত্রছায়া নির্বাচিত প্রতিনিধিদের রাকসুর প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন অনেকটা চ্যালেঞ্জিং। ক্যাম্পাসে বিগত এক বছরের কার্যক্রমে এমনটাই প্রতীয়মান হয়। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাকসু শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে রাকসুর কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। অন্যথায় বুমেরাং হবে।
