হাম নিয়ে দিশেহারা অভিভাবকেরা

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম ব্লকের সামনে অনেক মানুষের জটলা। কেউ হাম আক্রান্ত শিশু নিয়ে ওয়ার্ডে প্রবেশের অপেক্ষা করছে। কেউ ওষুধ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষা করছে। কেউ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা প্রিয় সন্তানের সুস্থতার অপেক্ষা করছে। সবার মধ্যেই চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। হামে আক্রান্ত শিশুরা একই সঙ্গে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায়ও ভুগেছে।

হাম আক্রান্ত আরাফ নামে এক শিশুর পিতা বলেন, আমার সন্তানের বয়স এক বছর। তিনদিন আগে ভর্তি করেছি। জর কমলেও অন্যান্য সমস্যা কমে নাই। ওয়ার্ডের ভেতরে প্রচুর গরম। এক শয্যায় তিন থেকে চার জন পর্যন্ত শিশু। ঘণ্টায় ঘণ্টার কিনতে হচ্ছে ওষুধ। কী করব বুঝতেও পারছি না। নিজকে বড় অসহায় মনে হচ্ছে।

চট্টগ্রামে হাম উপসর্গের রোগী প্রতিনিয়তই বাড়ছে। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। প্রতিদিন গড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ৭০ জন করে। ভর্তির বাইরেও আরো কয়েকগুণ রোগী আছে। হাসপাতালে মিলছে না শয্যা। মুমূর্ষু রোগীর জন্য মিলছে না আইসিইউ। কেবল সরকারি হাসপাতাল নয়, বেসরকারি হাসপাতালেও মিলছে না শয্যা। ফলে হাম আক্রান্ত শিশু মা-বাবারা চরম ভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে অনেকে বিপর্যস্ত। কেউ বা হচ্ছে নিঃস্ব।

জানা যায়, চমেক হাসপাতালে হামের চিকিৎসায় ৫০ শয্যার বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু করা হয়। সঙ্গে আছে ১০টি শয্যার পিএসইউ। এর বাইরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে ১৬টি আইসোলেশন শয্যা। কিন্তু রোগীর সংখ্যা এসব শয্যার ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে অনেক শিশুকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া বলেন, প্রতিনিয়তই হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী আসছে। বাড়ছে হামসহ নানা উপসর্গের রোগী। সবাইকে ভর্তি করা হচ্ছে। শয্যার বাইরেও ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। চেষ্টা করি সবাইকে ভালো সেবাটা দিতে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান বলেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে পৃথক রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি বাড়িতেও আক্রান্ত রোগীকে অন্যদের থেকে পৃথক রাখতে হবে। কিন্তু হাসপাতালেই যখন রোগীর চাপ ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের প্রকোপ শুরু হয়। গত ১৫ মার্চ থেকে গত শনিবার পর্যন্ত মহানগর ও জেলার ১৫ উপজেলায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৮৩১ জন। গত রবিবার একদিনেই ভর্তি হয় ৬০ জন। ইতোমধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৩৭ জনের। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯ হাজার ৫২২ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০৯ জন। ইতোমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যায় ৩৫ জন। হাম শনাক্ত হয়ে মারা যায় ৩ জন। পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে ৩ হাজার ৪৯১টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights