২০০ কোটি রুপি চাঁদাবাজি মামলায় সাক্ষী নোরা, অভিযুক্ত নন: লিগ্যাল টিম

শোবিজ ডেস্ক

প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের বহুল আলোচিত ২০০ কোটি রুপির চাঁদাবাজি মামলায় কোনো অন্যায় বা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন বলে স্পষ্ট জানিয়েছে বলিউড অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহির আইনি দল। তারা জোর দিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, নোরা এই মামলায় কেবল একজন সাক্ষী হিসেবে আদালতকে সহায়তা করছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ নেই।

দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে গত ২ নভেম্বর অর্থনৈতিক অপরাধ শাখার (ইওডব্লিউ) তদন্তাধীন এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নোরা ফাতেহিকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তলব করা হলেও তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। তার আইনজীবীরা আদালতকে জানান যে, পেশাগত পূর্বসূচীর কারণে এবং অত্যন্ত স্বল্প সময়ে সমন হাতে পাওয়ায় নোরা সময়মতো সশরীরে হাজির হতে পারেননি। ফলে আদালত থেকে তার ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন জমা দেওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন এবং শুনানি স্থগিত করে আগামী ৬ নভেম্বর নোরাকে পুনরায় আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নতুন সমন জারি করেন।

এক বিজ্ঞপ্তিতে নোরার আইনি দল নিশ্চিত করেছে যে, এই মামলায় তিনি কোনোভাবেই অভিযুক্ত নন, বরং মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্যই তাকে তলব করা হয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে সুকেশ চন্দ্রশেখর-সংক্রান্ত ইওডব্লিউ মামলার শুনানিতে নোরা ফাতেহিকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। তবে খুব কম সময়ে সমন পৌঁছানোয় এবং আগে থেকেই কাজের প্রতিশ্রুতি থাকায় তার পক্ষে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি। এ সংক্রান্ত মওকুফ আবেদন বিবেচনার পর আদালত আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত শুনানি স্থগিত করেছেন এবং নতুন সমন জারি করেছেন।

এই ঘটনার মূল সূত্রপাত দিল্লির রোহিণী কারাগার থেকে পরিচালিত সুকেশ চন্দ্রশেখরের এক বিশাল চাঁদাবাজি চক্রকে ঘিরে। তদন্তকারীদের মতে, সুকেশ নিজেকে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি হাতিয়ে নিয়েছেন। দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (ইওডব্লিউ) এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে মহারাষ্ট্র সংগঠিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইন (এমসিওসিএ)-এর অধীনে ইতিমধ্যেই চার্জশিট দাখিল করেছে।

সুকেশ চন্দ্রশেখর এবং তার স্ত্রী লিনা মারিয়া পলোসের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ নিয়ে ইওডব্লিউ-এর পূর্ববর্তী এক দফার জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই নোরা ফাতেহির নাম এই তদন্তে উঠে আসে। পরবর্তীতে নোরার জবানবন্দি সিআরপিসির ১৬৪ ধারার অধীনে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে রেকর্ড করা হয় এবং সম্পূরক চার্জশিটে তাকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে নোরা ফাতেহি শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, সুকেশের সঙ্গে তার যা কিছু লেনদেন বা কথা হয়েছিল, তার সবই সম্পন্ন হয়েছিল সুকেশের স্ত্রী লিনার মাধ্যমে।

সূত্র: গালফ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights