আগুনে বসতঘরসহ পুড়ল গবাদিপশু, অল্পের জন্য রক্ষা বৃদ্ধা
দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আগুনে এক রিকশাচালকের বসতঘরসহ একটি গর্ভবতী গাভি, একটি বকনা বাছুর ও দুটি ভেড়া পুড়ে মারা গেছে। তবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ওই বাড়িতে থাকা ৮০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পূর্ব রাজারামপুর গ্রামের আদর্শ কলেজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত খোকন ইসলাম ওই গ্রামের মৃত নছির উদ্দিনের ছেলে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রিকশা চালাতে শহরে গিয়েছিলেন খোকন ইসলাম। রাতে তার স্ত্রী ও সন্তান পাশের একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। এ সময় বাড়িতে একা ছিলেন তার বৃদ্ধা মা জবেদা বেওয়া। হঠাৎ বসতঘরে আগুন দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাঁরা দ্রুত জবেদা বেওয়াকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। গোয়ালঘরে থাকা একটি গর্ভবতী গাভি, একটি বকনা বাছুর ও দুটি ভেড়াও পুড়ে মারা যায়।
ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ইনচার্জ লিডার উপেন্দ্রনাথ রায় বলেন, আগুনে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক এ এস এম শাহাদাত হোসেন এবং শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামেদুল ইসলাম। এ সময় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও খাদ্যসহায়তা তুলে দেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ইউপি চেয়ারম্যান ছামেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক, সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। তাদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাসান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শুকনো খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে পরিবারটিকে অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
