আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি, গুয়াতেমালায় বসতি খালি করার নির্দেশ
গুয়াতেমালার অন্যতম সক্রিয় ফুয়েগো আগ্নেয়গিরিতে হঠাৎ অগ্ন্যুৎপাত বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের দুটি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাতের মাত্রা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘কনরেড’ জরুরি ভিত্তিতে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার নির্বাহী সচিব ক্লডিন ওগালদেস জানিয়েছেন, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আগ্নেয়গিরির পাদদেশে অবস্থিত ‘এল পোরভেনির’ গ্রাম এবং ‘লাস লাহিতাস’ পল্লী থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ৫০টি পরিবারের আড়াইশ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই এলাকাটিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সাথে আশপাশের শহরগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ছাই ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মিটার উঁচু লাভার ফোয়ারা তৈরি হয়েছে। এর সাথে বায়ুমণ্ডলে জমা হচ্ছে বিশাল ছাই ও বিষাক্ত গ্যাসের মেঘ। পাশাপাশি অতি দ্রুত গতিতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসছে তপ্ত লাভা ও পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ। স্থানীয়দের সুরক্ষায় আগ্নেয়গিরির পাশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ‘জাতীয় সড়ক ১৪’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত ঘোষণা করেছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ফুয়েগো মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে একটি। এর আগে ২০১৮ সালের জুনে এই আগ্নেয়গিরির একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি পুরো গ্রাম ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং কয়েকশো মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সেই দুর্যোগে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়েও অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে একাধিকবার আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
