ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক মেরুকরণ : রাশিয়ার পাশে সরাসরি উত্তর কোরিয়ার সেনা

অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধ কেন্দ্র করে বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতার নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে। ন্যাটো ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৪ সালে দেশ দুটির মধ্যে ন্যাটো স্টাইলের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির পর থেকে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা সরাসরি রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। এই ঘটনা বৈশ্বিক সামরিক হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়েছে এবং ইউক্রেনকে বিপাকে ফেলেছে।

ইউক্রেনীয় ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের ডেপুটি হেড মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিটস্কি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা সাড়ে ৮ হাজার উত্তর কোরীয় সেনার দলে ১ হাজার প্রকৌশলী এবং ৪০০ ড্রোন অপারেটর রয়েছেন। ইউক্রেনের ভেতরে নজরদারি ও আক্রমণে তারা ব্যবহৃত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে আরও ৫০ হাজার সৈন্য চাইতে পারেন।

স্কিবিটস্কি জানান, গত বছরের আগস্টের আগে পিয়ংইয়ং কমপক্ষে ১৫০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল সরবরাহ করেছিল। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের মতে, এই সেনারা সরাসরি ফ্রন্টলাইনে না লড়ে রাশিয়ার পেছনের অবস্থান শক্তিশালী করছে।

রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর পেছনে পিয়ংইয়ংয়ের কৌশলগত স্বার্থও রয়েছে। অস্ত্রের বিনিময়ে তারা রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি ও খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন দেশটির সেনারা ড্রোন যুদ্ধ ও নজরদারির বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।

সামরিক রসদ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে তুমেন নদীর ওপর একটি নতুন সেতুর কাজ প্রায় শেষ। রাশিয়ার সাথে এই সম্পর্কের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, তারা যৌথভাবে পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি ‘নতুন ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বব্যবস্থা’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।

সম্প্রতি পুতিনকে লেখা এক চিঠিতে কিম বলেছেন, আপনার সঙ্গে একযোগে উত্তর কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্কের নেতৃত্ব দিয়ে অভিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করতে পারায় আমি সব সময় গর্বিত।

কিম আরও বলেন, পুতিনের দূরদর্শী নেতৃত্বে রাশিয়া সমৃদ্ধ হবে এবং তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করবে। এ বিষয়ে তার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।

জবাবে পুতিন চিঠিতে বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এটি এখন সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights