ইরানের হামলার নাগালে লন্ডন-প্যারিস, ভীষণ চিন্তায় ইউরোপ!

অনলাইন ডেস্ক
কতটা শক্তি অর্জন করে ফেলেছে ইরান, শনিবারের পর থেকে এই প্রশ্নই তোলপাড় করে দিয়েছে ইউরোপকে। কারণ, চার হাজার কিলোমিটার দূরে সুদূর ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একটি নয়, পরপর দু’টি! এর আগে এত দূরের লক্ষ্যে কখনও নিশানা করেনি তেহরান।

অনেকের মতে, ডিয়েগো গার্সিয়াকে যদি ইরান নিশানা করতে পারে, তাদের আক্রমণের নাগালে চলে আসতে বাধ্য লন্ডন কিংবা প্যারিসের মতো শহর। এমনকি, সেক্ষেত্রে ইউরোপের অধিকাংশই ইরানের আক্রমণের পরিধিতে চলে আসবে। যেকোনও মুহূর্তে যেকোনও ছোট বা বড় শহরের উপর এসে পড়তে পারে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র। হতে পারে বহু হতাহত। এতে ভীষণ চিন্তায় পড়েছে ইউরোপ। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানকে সমর্থন করার ক্ষেত্রেও তাই এখন বারবার ভাবতে হবে ইউরোপীয় দেশগুলোকে।

যুক্তরাষ্ট্র- ইসরায়েলের ধারণা ছিল, ইরান সর্বোচ্চ দু’হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও গত মাসে আক্রমণের এই সীমারেখা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু শনিবারের হামলার পর সেই স্বীকারোক্তিকে সঠিক নয় বলে মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ, তলে তলে সামরিক শক্তি, ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা অনেকটা বাড়িয়ে ফেলেছে তেহরান। এত দিন তা গোপন রাখা হয়েছিল। মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে এবার তা ‘খোলস’ ছেড়ে বেরিয়ে আসছে।

ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র দু’টি অবশ্য শনিবার ভোরে ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ-মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারেনি। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝপথেই ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়টিকে প্রতিহত করে মার্কিন অস্ত্র। ফলে চার হাজার কিলোমিটার দূরের ডিয়েগো গার্সিয়াকে সফলভাবে আঘাত করার ক্ষমতা ওই ক্ষেপণাস্ত্রের আদৌ ছিল কি না, তা জানা যায়নি। তবে এ কথাও সত্য যে, ওই দ্বীপকেই নিশানা করা হয়েছিল। কেবল পশ্চিম এশিয়াতেই আর তাদের সামরিক ক্ষমতা সীমাবদ্ধ নেই। এই প্রথম ইরান মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগ করল, যা আমেরিকা, ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপের অস্বস্তিও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শনিবার এই হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণের জন্য আমেরিকাকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ব্রিটেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বলা হয়েছে, আমেরিকাকে সাহায্য করে বহু ব্রিটিশ নাগরিকের জীবন বিপন্ন করছে যুক্তরাজ্য।

ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ ভূখণ্ডে রয়েছে ডিয়েগো গার্সিয়া। এটি একটি কৌশলগত ঘাঁটি, যা আমেরিকাও সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহার করে। অনেক মার্কিন বম্বার, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং ক্ষেপণাস্ত্র এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হয়েছে। তার পুত্র মোজতবা খামেনিই এখন সেদেশের সর্বোচ্চ নেতা। অনেকের মতে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরান আরও কঠোর মনোভাবের দিকে এগোচ্ছে। ডিয়েগো গার্সিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র নিশানা করা তারই প্রমাণ। এর জন্য পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনকেই দায়ী করছেন কেউ কেউ। সূত্র: ডয়েচে ভেলে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights