ঈদকে সামনে রেখে টিকিট কালোবাজারিরা সক্রিয় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি রোধে স্টেশন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা। দায় সারা কথা বলেই এড়িয়ে জান কর্মকর্তারা। চিন্তিত যাত্রী সাধারণ
মোঃ ইসমাইল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে, অনেকে বনে গেছে কোটিপতি, কিনে ফেলেছে বিশাল অট্টালিকা, কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের কোন লক্ষণ দেখা যায়নি স্টেশন প্রশাসনের, কালোবাজারিদের সাথে গোপন আঁতাতের অভিযোগও উঠেছে হর হামেশা। কালোবাজারি রোধে দায় সারা বক্তব্য দিয়েই এড়িয়ে যান কর্মকর্তারা। দিনাজপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ কর্তৃক ধৃত আব্দুল মনিরের ছেলে সালাম সরকার স্টেশন রোডে দ্বিতীয় তলা একটি বোডিং ক্রয় করেছে, বতর্মানে বিল্ডিংটি ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ কাজ চলছে। যার বতর্মান বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা, এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মনির ও তার ছেলে সালাম সরকারের স¤পত্তি বলতে তেমন কিছু নেই, তাহলে এতো টাকার উৎস কি? প্রায় দেড় যুগ ধরে ট্রেনের টিকিট অধিক থেকে অধিক মূল্যে বিক্রি করেই অবৈধ উপার্জন দিয়ে স¤পদ গড়েছেন তারা, এমনটাই গুঞ্জন চলছে এলাকাজুড়ে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চাকুরির শুরুতে দিনাজপুর চিরিরবন্দর স্টেশনে যোগদান করেন, (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমান। প্রাথমিক অবস্থায় লার্নিং ডিউটি নেন, তাকে প্রশিক্ষণ দেন তৎকালীন সময়ের, স্টেশন মাস্টার বিমল সরকার, পরবর্তীতে বগুড়া জেলার শুকান পুকুর স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-০৩) হিসেবে যোগদান করেন।
সেখানে কর্মরত কালীন অবস্থায় জনগণ দারা লাঞ্ছিত হন, এরপর বোনার পাড়া স্টেশনে কর্মরত থাকা অবস্থায়, রেলওয়ে শ্রমিক লীগের হাতে গণ ধলাইয়ের শিকার হন, দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের (গ্রেড-০১) স্টেশন সুপারিন্টেনডেন্ট না থাকায় (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পান (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমান। দীর্ঘ ৬বছর অতিবাহিত হলেও এখনো তিনিই দায়িত্বে রয়েছেন, প্রতিদিন (এস.এস) অফিস রুমে দেখা যায়, বিতর্কিত দুর্নীতি পরায়ণ, অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিয়ে খোশ গল্পে মগ্ন রয়েছেন, ‘‘অফিস রুমের বাহির থেকে বোঝা যায় যেন কোন মিটিং চলছে’’। যাত্রী সাধারণ, টিকিট বিষয়সহ যে কোনো বিষয়ে অভিযোগ করতে-বলতে, অফিস রুমে ঢোকারই সাহস পান না। একটি বেসরকারি স্কুল শিক্ষক, কায়সার নামক ব্যক্তির সঙ্গে গোড়ে তুলেছেন বন্ধুত্ব, অফিসের খাতায় সিগনেচার করেই, ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন তারা।
অফিসের ওয়ালে কর্মকর্তাদের নামের তালিকা ঝোলানো রয়েছে, চতুর স্টেশন মাস্টার জিয়াউর রহমান তার নামের আগে-পরে (ভারপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত দায়িত্ব কথাটি উল্লেখ করেন নাই। যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয়রা মনে করছেন তিনিই (গ্রেড-০১) সুপারিন্টেনডেন্ট। আসলে তিনি তা নন, রেলওয়ে সূত্রটি আরও আনান, আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট নিয়ন্ত্রণ করেন (সহজ ডট কম) আর এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির দায়িত্বে রয়েছেন মোছা. মেহেরুন্নেছা, তাকে নিয়ন্ত্রণ করেন স্টেশন প্রশাসন। যখনি টিকিট ওপেন করার সময় হয়, তার আগেই টিকিট কালোবাজারিদের হল সেলারদের জানিয়ে দেওয়া হয়। কালোবাজারিরা টিকিটগুলো কেটে নেয়, ফলে অনলাইন এবং কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যায় না। আর এই টিকিট বিক্রির টাকা উভয়ই ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, গুঞ্জন চলছে সর্ব মহলে, যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয়দের মাঝে।
সূধি মহল সচেতন মহলসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ মনে করেন, স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-০৩) (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমানকে অন্যত্র বদলি করে, দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে স্বচ্ছ, সুন্দর, প্রশাসনিক অবকাঠামো ফিরিয়ে আনতে দরকার (গ্রেড ০১) সুপারিন্টেনডেন্ট( এস.এস)। তানাহলে প্রশাসনিক অবকাঠামো আরও অবনতির দিকে যাবে বলে মনে করেন তারা।
অপরদিকে গত শনিবার (৮ জুন ২০২৪) দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে ট্রেনের ২০ টিকিটসহ কালোবাজারি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দিনাজপুর কোতোয়ালী থানায় (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ হোসেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার আব্দুল মনিরের ছেলে সালাম সরকার (৩৫) ও একই এলাকার পশ্চিমপাড়ার মৃত মদু মিয়ার ছেলে সুজন (২৭)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ট্রেনের ২০টি টিকিট ও পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
ওসি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সালাম, সুজনসহ একটি চক্র দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি করে আসছিলেন। ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে তারা আরও সক্রিয় ওঠে। যাত্রীদের কাছে উচ্চমূল্যে এসব টিকিট বিক্রি করতেন তারা। এছাড়াও এ চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ১১ জন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে টিকিট কালোবাজারি রোধে অভিযান চলমান থাকবে। আর পলাতক আসামিদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ এফ এম মনিরুজ্জামান মণ্ডল, উপ-পরিদর্শক ইন্দ্র মোহন উপস্থিত ছিলেন।
শুকান পুকুর স্টেশন মাস্টার অতিরিক্ত দায়িত্বে দিনাজপুর রেলওয়ে (এস.এস) (এ.বি.এম) জিয়াউর রহমান স্বীকার করেন, অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সাথে সাথেই কালোবাজারি চক্র সুকৌশলে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে। এসব টিকিট সংগ্রহ করে যাত্রীদের জিম্মি করে তারা অধিক দামে টিকিট বিক্রি করে থাকে, টিকিট কালোবাজারি চক্রের দুই সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
