একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহ কেন এতটা আলাদা হলো, জানাল গবেষণা
অনলাইন ডেস্ক
প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে একই গ্যাস ও ঘূর্ণায়মান ধূলিকণার মেঘ থেকে জন্ম নিয়েছিল পৃথিবী ও মঙ্গল। কিন্তু জন্মের পর দুই প্রতিবেশী গ্রহ সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হেঁটেছে। কেন এমনটি হলো, তা নিয়ে সম্প্রতি চমকপ্রদ এক তথ্য প্রকাশ করেছেন কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোব ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। তাদের মতে, গ্রহ দুটির গঠনের উপাদানের ভিন্ন অনুপাতই তাদের একে অপরের চেয়ে আলাদা করে দিয়েছে।
বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানান, গ্রহ তৈরির দুটি মূল প্রক্রিয়া রয়েছে। একটি হলো কয়েক কিলোমিটার আকৃতির বড় পাথরের খণ্ড বা ‘প্ল্যানেটেসিমাল’ একত্র হওয়া এবং অন্যটি হলো ছোট ছোট পাথর বা ‘পেবল’ জমা হওয়া।
গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর ভরের অন্তত ৭৫ শতাংশই এসেছে ছোট পাথর জমার মাধ্যমে তৈরি হওয়া প্রোটোপ্ল্যানেট বা প্রাথমিক গ্রহ থেকে। বাকি ২৫ শতাংশ এসেছে বড় পাথরের খণ্ড থেকে।
অন্যদিকে, মঙ্গল গ্রহের ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক উল্টো ঘটনা। গ্রহটির ভরের প্রায় ৭৫ শতাংশই তৈরি হয়েছে বড় পাথরের খণ্ড থেকে। আর বাকি মাত্র ২৫ শতাংশ এসেছে ছোট পাথর থেকে। গ্রহগুলোর ভূত্বক ও ম্যান্টলে (গভীরে) থাকা সোডিয়াম, জিংক এবং পটাশিয়ামের মতো উদ্বায়ী রাসায়নিক উপাদানগুলো পরীক্ষা করে এই প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মূলত এই উপাদানগুলো উচ্চ তাপমাত্রায় বাষ্প হয়ে যেতে পারে।
কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, গঠনের এই পার্থক্যের কারণেই একই সৌরজগতে জন্ম নেওয়ার পরও গ্রহ দুটি এতটা আলাদা। এই কারণেই মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর চেয়ে বেশ ছোট এবং এর ভেতরের অংশ দ্রুত শীতল হয়ে গেছে। নতুন এই গবেষণা শুধু পৃথিবী ও মঙ্গলের ইতিহাসই জানায়নি; বরং কোনো গ্রহে কীভাবে বায়ুমণ্ডল ও তরল পানি টিকে থাকার মতো পরিবেশ তৈরি হয়, সে সম্পর্কেও নতুন ধারণা দিয়েছে।
