এখনো সবুজ সংকেত পায়নি বিসিবি

আসিফ ইকবাল

পাশাপাশি দুই প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারত। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখন সবচেয়ে শীতল। সম্পর্ক এতটাই শীতল যে, দুই দেশের ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজ সংশয়ের বেড়াজালে আবদ্ধ। আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে দুই দেশের তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ খেলার কথা। কিন্তু সিরিজটির ভবিষ্যৎ এখনো নিশ্চিত নয়। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, শ্রেয়াস আইয়ার, সূর্যবংশীরা সফর করবেন কি না সে বিষয়ে ভারত সরকার কোনো সবুজ সংকেত দেয়নি দেশটির ক্রিকেট বোর্ডকে। সরকারের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত পায়নি বলে বিসিসিআই সফর নিয়ে কোনো সবুজ সংকেত দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। এজন্য দুই দেশের সফর ঝুলে গেছে! সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিসিবির সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন জানিয়েছেন বিসিবি আশা করছে সিরিজ আয়োজনের, ‘এফটিপির স্ক্যাজুয়াল অনুযায়ীই এই দুটি সিরিজ। এখনো যেহেতু বিষয়টির চূড়ান্ত কিছু হয়নি, সুতরাং আমরা সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি দুটি সিরিজই আয়োজন করব। ভারতের ক্রিকেট দল খেলতে আসবে।’ এই সিরিজটি গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সিরিজটিতে ভারতীয় দলকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তা পরিদর্শক দল পাঠাতে পারে যেকোনো সময়।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নতুন মুখ মুশফিক হাসানের বোলিং দেখছেন বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের – বিসিবিদুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু চলতি বছরের জানুয়ারিতে। আইপিএলের নিলামে মুস্তাফিজুর রহমানকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ মূল্যে দলভুক্ত করেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। পরবর্তীতে বিসিসিআইয়ের চাপে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এটা মেনে নিতে পারেনি বিসিবি এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। বাঁ-হাতি পেসারকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে আইপিএলের খেলাগুলো সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর মার্চে টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট করে বাংলাদেশ। ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করলেও অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কটের কথা বলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর থেকে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক জটিল হয়ে ওঠে। টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে অবশ্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসি অনেক চেষ্টা করেছিল। যদিও বিসিবির তৎকালীন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সরকারের নির্দেশনায় আইসিসির কাছে শর্ত জুড়ে দেন বাংলাদেশের খেলাগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে। কিন্তু আইসিসি সেই শর্তে রাজি হয়নি। ফলে বাংলাদেশ ছাড়াই টি-২০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়।

ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ না খেললেও বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলতে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় ঢাকায় খেলে গেছে ভারতীয় ফুটবল দল। দুই দেশের আসন্ন টি-২০ ও ওয়ানডে সিরিজ যেন মাঠে গড়ায় এজন্য লন্ডনের আইসিসির সভার ফাঁকে দুই দেশের কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বাংলাদেশ চাইছে দুটি না হলেও ন্যূনতম একটি সিরিজ যেন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিসিবির সিইও আত্মবিশ্বাসী দুটি সিরিজ আয়োজনে, ‘লন্ডনে আইসিসির সভার ফাঁকে দুই দেশের কর্মকর্তারা বৈঠক করেছি। ইতিবাচক আলাপ-আলোচনা হয়েছে সেখানে। আমাদের প্রত্যাশা সিরিজ আয়োজনে। এখন সবকিছু নির্ভর করছে ভারত সরকারের সংকেতের ওপর। তাদের সংকেত পেলেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আমাদের জানাবে। নিয়ম অনুযায়ী দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড নিয়মিত পারস্পরিক যোগাযোগ করছে। এ ছাড়া দুই দেশের বোর্ড সভাপতিও সিরিজ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছে।’

সিরিজ আয়োজনে অগ্রগতি না থাকলেও সম্ভাব্য সময় হিসেবে সেপেটম্বরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তারপরও ম্যাচের সূচি চূড়ান্ত হয়নি। দুই দেশ সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছে ১৭ মাস আগে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। বাংলাদেশের মাটিতে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। দুই দেশ সর্বশেষ টি-২০ ম্যাচ খেলেছে গত বছরের সেপ্টেম্বরে। ঘরের মাটিতে ভারতকে টি-২০ ম্যাচে আতিথেয়তা দিয়েছে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights