কারবালার শিক্ষা নিয়ে মাভাবিপ্রবিতে দিনব্যাপী সেমিনার
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র মহররম ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে ‘কারবালার শিক্ষা: ন্যায়, ত্যাগ ও মানবতা’ শীর্ষক সেমিনার, ডিজিটাল কনটেন্ট ও কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ আয়োজন করে মাওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, মহান আল্লাহ মানবজাতিকে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন এবং তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পাঠিয়েছেন। তিনি তরুণদের কারবালার চেতনা ধারণ করে ন্যায়, সত্য, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও নৈতিক শিক্ষা বিকাশে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেইন। তিনি বলেন, কারবালার ঘটনা কেবল ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; এটি সত্য, ন্যায়, আত্মত্যাগ ও মানবমুক্তির অনন্য শিক্ষা। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কারবালার আদর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণের আদর্শ ধারণ করে সমাজ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মো. ইমতিয়াজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন মাওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মোহাম্মদ হাদিফুর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সহকারী রেজিস্ট্রার এম. এ. আজান সোবহানী আল ভাসানী।
এ উপলক্ষে ‘কারবালা থেকে গাজা: জুলুমের বিরুদ্ধে আপসহীনতা’ বিষয়ক ডিজিটাল কনটেন্ট প্রতিযোগিতা এবং ‘কারবালা থেকে গাজা: ইতিহাস ও মূল্যবোধ’ বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি শর্ট ভিডিও (রিল/শর্ট ফিল্ম), প্রেজেন্টেশন, ইনফোগ্রাফিক ও ডকুমেন্টারি প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ, সনদপত্র ও ইসলামী বইসহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
