কিংসে রবসনের সঙ্গী আরেক ব্রাজিলিয়ান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঘরোয়া ফুটবলে দলবদল শেষ হতে চলেছে। তবে নতুন মৌসুম শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। দ্বিতীয় দফায় তারিখ নির্ধারণ হওয়ার পরও বাস্তবায়িত হচ্ছে না, তা অনেকটা নিশ্চিত। অধিকাংশ ক্লাবেরই প্রস্তুতি শুরু হয়নি বলে তারা মাঠে নামতে চাচ্ছে না। কয়েকটি ক্লাব আবার দাবি জানাতে পারে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ হওয়ার পরই ঘরোয়া আসর শুরু করতে। এতে বন্ধ ছাড়াই খেলা যাবে। জাতীয় দলের ব্যস্ততা, এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের জন্য খেলা বন্ধ থাকলে ক্লাবগুলোকে নাকি বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। সেজন্যই সাফ চ্যাম্পিনশিপের পরই তারা খেলাটা নিরাপদ মনে করছে। বিশেষ করে মোহামেডান ও আবাহনী কোনোভাবেই চাচ্ছে না দ্বিতীয় দফায় নির্ধারিত তারিখে খেলতে।

যাক, ঘরোয়া আসর নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও পেশাদার ফুটবলের ক্লাবগুলো খেলোয়াড় সংগ্রহের কাজটি সেরে ফেলেছে। সবার আগে এবার ঘর গুছিয়ে নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডান ক্লাব। দেশি ও বিদেশি খেলোয়াড়দের নিবন্ধনের কাজটিও সেরে ফেলেছে তারা। ফিফা থেকে দলবদলের কর্মকাণ্ড স্থগিত থাকায় পেশাদার লিগ চ্যাম্পিয়ন বসন্ধুরা কিংস ও রানার্সআপ আবাহনীকে দেরিতে দলবদলের কর্মসূচিতে অংশ দিতে হয়েছে। এক সময় মনে হচ্ছিল শক্তির দিক দিয়ে মোহামেডান ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে। তা আর হচ্ছে না। কিংস ও আবাহনী দেরিতে দলবদলে নামলেও শক্তিশালী দল গড়তে সক্ষম হয়েছে।

ফাইল ফটোকিংস এমন সময়ে দলবদলে অনুমতি পায় তখন তারা কীভাবে ঘর সাজাবে এনিয়েই অস্থিরতায় ছিল। এর মধ্যে আবাহনী ঠিকই ঘর গোছানোর কাজ শুরু করে দেয়। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ খেলা নাইজেরিয়ার বাবা তুন্দেকে নিশ্চিত করে আলোড়ন তোলে। এরপর আবার সানডে আদনানি, অ্যান্তোনিও ওকাচিকে টানতে সক্ষম হয়। এরমধ্য আবার ঘরোয়া ফুটবলে খেলে যাওয়া চিনেডুকেও নিয়েছে। বসুন্ধরা কিংস লোকাল হিসেবে কাজিম শাহ্ ঢাকা আবাহনীর নাইজেরিয়ান ফুটবলার এমেকা ওগোবাকে নিশ্চিত করে। মোহামেডানে একাধিক লোকাল ফুটবলার চলে গেলেও বেশ কয়েকজন পরীক্ষিত খেলোয়াড় থেকে যাওয়ায় স্থানীয়দের নিয়ে ততটা টেনশনে ছিল না টিম ম্যানেজমেন্ট। এরপর আবার সাফ কোটায় নেপালের রোহিত চাঁদ, মানিশ দাঙ্গি ও অঞ্জন বাস্তিকে লোকাল কানেকশনে গতবারের চেছের শক্তিশালী হয়ে যায় কিংস।

অভিষেকের পর থেকে বিদেশি মানসম্পন্ন ফুটবলার এনে আলোড়ন তুলছিল কিংস। কিন্তু দলবদলের শেষের দিকে এসে বিদেশি নিয়েই চ্যালেঞ্জ ছিল। গতবারে খেলে যাওয়া ডরিয়েলটন মালদ্বীপের রেডিয়ান্ট ক্লাবে চলে যান। সানডে ও টনি নাম লেখান মোহামেডানে। পুরোপুরি নতুন বিদেশি প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আবাহনীর এমেকা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। এর মধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা কেপ ভার্দের ফুটবলার দিয়াজ কোরেইকাকে নেওয়ার কথা শোন যাচ্ছিল। এখন নাকি তাঁর ব্যাপারে আগ্রহী নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। ভুটানের চেনচোকেও নিশ্চিত করার কথা শোনা যাচ্ছিল। এখন নাকি তার ব্যাপারেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে কিংস। তার পরও ব্রাজিলের রবসন রবিনহোকে নিশ্চিত করার পরই দলবদলে দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে গেছে। কিংসের ফুটবলের এত সাফল্যের পেছনে তাঁর অবদান স্বীকার করতেই হবে।

টানা চার মৌসুম খেলে দলকে চার লিগ শিরোপা উপহার দিয়েছেন। তিনি এমনভাবে মিশে যান যে, তাঁকে কিংসের ঘরের ছেলেই বলা হতো। অথচ এ রবসনই কিংস ছেড়ে চলে যান কলকাতা মোহনবাগানে। দুই মৌসুম পর আবার তাঁকে দেখা যাবে কিংসে। কথা হচ্ছে তিনি খেললেও আক্রমণভাগে তাঁর সঙ্গে জুটি গড়বেন কে? দিয়াজ ও চেনচো না এলে দুই বিদেশি কোটা বাকি থাকবে। ক্লাব সূত্রেই জানা গেছে, দলে আরেক ব্রাজিলিয়ান আসছে। ব্রাজিলের ভিনানোভা এফসিতে খেলা ২৬ বছর বয়স্ক কাইকি দে জেসুস দা সিলভার সঙ্গে ক্লাবে চূড়ান্ত কথা হয়ে গেছে। তিনি রবসনের সঙ্গে আক্রমনভাগে জুটি বাঁধতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights