কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষককে বদলির প্রতিবাদে বিক্ষোভ
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনায় সাত শিক্ষককে কক্সবাজার, সিলেট ও বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত শিক্ষকরা সবাই ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথমে তাদের ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ন্যস্ত করে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন কলেজে সংযুক্ত হিসেবে বদলি করে। একই সঙ্গে এত শিক্ষকের বদলির ঘটনা এই কলেজে আগে কখনও ঘটেনি।
এই গণবদলির প্রতিবাদে শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় আন্দোলন থামাতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানান বদলি হওয়া শিক্ষক মোহাম্মদ মহসীন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (সরকারি কলেজ-২ শাখা) উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়। আদেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বদলিকৃত শিক্ষকরা হলেন- কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম (তাকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে), গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক (কক্সবাজার সরকারি কলেজ), উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া (নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার (লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ), হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন (সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ) এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন (বরগুনা সরকারি কলেজ)।
এদের মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের বাইরে ছিলেন, কারণ তার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা দায়িত্ব না নেওয়ায় কনিষ্ঠ অধ্যাপক আবদুল মালেককে কেন্দ্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া কনক বড়ুয়া ছিলেন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ মহসীন ছিলেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।
এর আগে গত ১৮ জুলাই (শনিবার) কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজ পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি ক্যাম্পাসের জলাবদ্ধতা এবং কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকদের সাথে এক বৈঠকে তিনি বলেন, এই ঘটনায় সরকার এবং শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
তবে বদলিকৃত শিক্ষকদের দাবি, এই কলেজে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। ঘটনার দিন সকালে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তার সত্ত্বেও কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল না এবং যথাসময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেবল বৃষ্টির কারণে পানি জমার দায় চাপিয়ে তাদের এই বদলি করা হয়েছে।
