কেনাকাটা ও উন্নয়নকাজ নিয়ে অভিযোগের পাহাড়
সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে অর্থের ব্যবহার, দরপত্রের স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ভারী যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় দরপত্রের শর্ত ও সরবরাহ করা যন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অসংগতির অভিযোগ, অন্যদিকে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে কাজের তুলনায় বেশি বিল উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি বিধি না মেনে ৩৩ কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর সাত বছরে ভারী যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে। এসব কেনাকাটায় দরপত্রের শর্তের সঙ্গে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির বৈশিষ্ট্যের অসংগতি এবং দরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে দরপত্রে নির্ধারিত উৎপত্তি দেশের সঙ্গে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির উৎসের অসংগতি এবং কম দরদাতাকে বাদ দিয়ে বেশি দরদাতাকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ। এসব ক্ষেত্রে কারিগরি শর্ত কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কী যুক্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং সরবরাহের পর যন্ত্রপাতি যাচাই করা হয়েছিল কি না সেই প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এর জেরে ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালায় দুদক। নগরীর আমলাপাড়া, ব্রাহ্মপল্লী ও বাঘমারা এলাকার সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার কাজ নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তখন এ অভিযান পরিচালিত হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক রাজু মো. সারওয়ার হোসেন তখন সাংবাদিকদের জানান, সরেজমিন কাজ পরিমাপ করে প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতির চেয়ে বেশি কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। সিটি করপোরেশনের সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর সরকার ১ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করে। প্রকল্পটির বিভিন্ন কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুদকের অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ। অপরদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলতি দায়িত্ব পাওয়া ৩৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
