গ্রেনেড হামলা পঁচাত্তরের পুনরাবৃত্তি, জড়িতদের শাস্তি দাবি
রাবি প্রতিনিধি
নৃশংস গ্রেনেড হামলাকে পঁচাত্তরের পুনরাবৃত্তি অ্যাখ্যা দিয়ে জড়িতদের বিচারিক রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকরা।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগর, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পুরনজিৎ মহালদার প্রমূখ।
মানববন্ধনে উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা ছিল পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। শেখ হাসিনা যখন বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে সোনার বাংলা গড়তে যাত্রা শুরু করে তখন দেশদ্রোহীদের চক্রান্তে এই হামলা হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যা করাই ছিল এ হামলার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু সাধারণ জনগণ মানব ঢাল তৈরী করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছিল। নস্যাৎ করেছিল কুচক্রীদের চক্রান্ত। এই কুচক্রীরা কখনই চায়নি দেশ এগিয়ে যাক। তবে দেশের মানুষ জেগেছে। এখন শেখ হাসিনাকে রক্ষার দায়িত্ব জনগণ নেবে। যেমন নিয়েছিলেন ২১ আগস্ট। দেশের মানুষ এই নৃশংস হামলার বিচার চায়। তাই এই হামলায় জড়িতদের বিচারিক রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি। একই দাবি জানান প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের অন্য শিক্ষকরা।
প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সাচিবিক সদস্য অধ্যাপক এ এইচ এম কামরুল আহসানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদসহ প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের প্রায় শতাধিক শিক্ষকবৃন্দ।
এদিকে, এই নৃশংস হামলার বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভ শেষে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, সেদিন দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশেই বিএনপি-জামায়াত এই হামলা চালায়। কিন্তু জনগণ তাদের এই নারকীয় উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হতে দেয়নি। এতেই বুঝা যায় বঙ্গবন্ধু কন্যা জনগণেরই নেতা। নৃশংস এই হত্যাযজ্ঞে জড়িত সকলের বিচার কার্যকরের দাবি জানান এ নেতা।
বিক্ষোভে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান মিশু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব, হল ছাত্রলীগ নেতা মমিনুল ইসলাম, আশিকুর রহমান আপু, নাঈম ইসলাম, কামরুজ্জামান রুহুল প্রমূখ।
