চাঁদপুরে ভরা মৌসুমেও আড়তগুলোতে ইলিশের সংকট, দাম নাগালের বাইরে
চাঁদপুর প্রতিনিধি
ভরা মৌসুম চললেও চাঁদপুরের মাছের আড়তগুলোতে দেখা দিয়েছে ইলিশের সংকট। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে ইলিশের দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এতে হতাশ ক্রেতারা। তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার আশা, বৃষ্টিপাত বাড়লে এবং নদীতে স্রোত সৃষ্টি হলে জেলেদের জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়বে।
চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ—এই চারটি নদীতীরবর্তী উপজেলায় মোট ৫১ হাজার ১৮৯ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন।
আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল, অর্থাৎ ইলিশের ভরা মৌসুম। এ সময় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ মিলছে না। অথচ সাগরে ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে হাতিয়া, সন্দ্বীপ, চর আলেকজান্ডার, পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে শিপিং বোটে করে বিপুল পরিমাণ ইলিশ চাঁদপুর বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসত। প্রতিদিন সেখানে ২০০ থেকে ৩০০ মণ ইলিশ আমদানি হতো। কিন্তু গতকাল ঘাটে গিয়ে একটি শিপিং বোটও দেখা যায়নি। বর্তমানে আড়তে প্রতিদিন মাত্র ৪০ থেকে ৫০ মণ ইলিশ আসছে। এতে ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয়ও উঠছে না এবং দিন দিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ক্রেতা কামরুল হাসান ও মজিবুর রহমান জানান, বড় স্টেশন মৎস্য আড়তে ইলিশের ঊর্ধ্বমুখী দাম দেখে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা হতাশ হয়ে ফিরছেন। ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ টাকার কমে বিক্রি করা হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য, মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এখন ইলিশ কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চাঁদপুরে ইলিশের দাম দেশের অনেক বড় শহরের তুলনায়ও বেশি। ফলে ইলিশ খাওয়া এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ও সম্রাট বেপারী বলেন, জেলেদের জালে পর্যাপ্ত ইলিশ না ধরা পড়ায় আড়তগুলো প্রায় মাছশূন্য। ভরা মৌসুমেও আড়তে ইলিশ না আসায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অন্যান্য বছর স্থানীয় নদী ও বরিশাল অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ইলিশ আড়তে আসত। তখন এত ব্যস্ততা থাকত যে খাওয়ারও সময় মিলত না। অথচ এবার মাছের সংকটে অধিকাংশ সময় অলস বসে থাকতে হচ্ছে।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ১০০ টাকায়। ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর ছোট আকারের ৪ থেকে ৫টি ইলিশের এক হালি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেদের জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ছে না। বৃষ্টিপাত বাড়লে এবং নদীতে স্রোত সৃষ্টি হলে ইলিশের বিচরণ বৃদ্ধি পাবে, ফলে জেলেদের জালেও বেশি ইলিশ ধরা পড়বে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে, যা ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই ইলিশের প্রাচুর্য নিশ্চিত করতে নদীর ডুবোচর অপসারণ জরুরি। এছাড়া পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে নদীর পানির প্রবাহ ও স্রোত স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে, যা ইলিশের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
