চীনকে টেক্কা দিতে চিপ তৈরির কাঁচামালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর ও সৌর প্যানেল শিল্পে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য রুখতে এবার ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জাতীয় সুরক্ষার ওপর পরিচালিত এক বিশেষ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন প্রশাসন এই নির্বাহী আদেশ জারি করেছে। পলিসিলিকন ও এসংক্রান্ত আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক বসানোর পাশাপাশি এসব পণ্যের জন্য সর্বনিম্ন আমদানি মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। দুই পরাশক্তির মধ্যে চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের লড়াই যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই পদক্ষেপ সামনে এল। পাশাপাশি নিজেদের অভ্যন্তরীণ পলিসিলিকন উৎপাদন বাড়াতে মার্কিন প্রস্তুতকারকদের নানা প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, বিগত কয়েক দশক ধরে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রাসী নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব পলিসিলিকন উৎপাদন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সামরিক সরঞ্জাম ও ইলেকট্রনিক্স খাতের এই অতীব জরুরি কাঁচামালে ওয়াশিংটনের বাজার অংশীদারিত্ব ২০০৫ সালের ৫০ শতাংশ থেকে আশঙ্কাজনকভাবে কমে ২০২৪ সালে এসে দাঁড়িয়েছে দুই শতাংশেরও নিচে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পলিসিলিকন উৎপাদনের প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চীনের হাতে। নতুন এই নীতির ফলে হ্যামলক সেমিকন্ডাক্টর ও ওয়াকার কেমির মতো মার্কিন পলিসিলিকন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ওয়াশিংটনস্থ চীনা দূতাবাস। এক বিবৃতিতে বেইজিং একে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সেই সাথে নিজেদের প্রযুক্তি বাণিজ্য রক্ষা করতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানোর হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে তারা।
সূত্র: বিবিসি
