জবির ছাত্রী হলের রান্নাঘরে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে এক জুনিয়র ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সিনিয়র এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইতি খাতুনকে হলের রান্নাঘরে মারধর করেন সংগীত বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসমিম সানজানা সৃষ্টি।

ভুক্তভোগী ছাত্রী ইতি খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি রান্না করছিলাম। পরে চুলা ফাঁকা থাকায় সৃষ্টি আপু ডিম ভাজতে চাইলে ছেড়ে দিই। কিন্তু রান্না শেষ করতে দেরি হওয়ায় ও আমার ক্লাসের সময় হওয়ায় দ্রুত রান্না শেষ করতে বলি। কিন্তু আমি জুনিয়র বলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেন। আমার বাবা-মা তুলে গালি দেন। আমি প্রতিবাদ করায় আমাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারেন। তার মারধরে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’
অন্যদিকে অভিযুক্ত তাসমিম সানজানা সৃষ্টি বলেন, ‘জুনিয়র হয়ে ইতি বেয়াদবি করে। আমার সামনে তেড়ে আসে। এজন্য আমি কি বসে থাকব! আমিও মাইর খাইছি, আমিও অভিযোগ দিছি।’

জানা যায়, অভিযোগের বিষয়ে জানতে সৃষ্টির কাছে সাংবাদিক কল করার জের ধরে সৃষ্টির ছেলে বন্ধু ফাহিম ইশতিয়াক এক সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। নিউজ করলে মামলার হুমকি দেয়। হুমকির ঘটনায় কল রেকর্ডে শোনা যায়, ফাহিম ওই সাংবাদিককে মুঠোফোনে বলেন, ‘এই নিউজ যদি হয়, তুই যদি জড়িত থাকিস তোর খবর আছে। তোর নামে মামলা হবে। তোর লাইফ কিভাবে হেল করতে হয় তা আমি দেখবো। তোর সাহস কী! এই চু.. পোলা। তুই আজ দেখা কর। তোর খবর আছে।’

হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ফাহিম ইশতিয়াক বলেন, ‘আমি ওই সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। উত্তেজিত হয়ে খারাপ আচরণ করে ফেলেছি।’

হুমকিদাতা ফাহিম নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী দাবী করেন। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, ‘এই ছেলে ছাত্রলীগের কোনো রাজনীতিই করে না। তাকে আমি চিনিই না।’

এই বিষয়ে হলের প্রভোস্ট দীপিকা রানী বলেন, ‘আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। হলের শৃঙ্খলা কমিটিতে এটা তোলা হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এটি একটি নিন্দনীয় কাজ। সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত কাজ করবে। গতকাল ওই ছাত্রী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী মারধোরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেবো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights